বৃষ্টি পরিষ্কার করে না ব্ল্যাক কার্বন বাতাসের অদৃশ্য ঝুঁকি
ব ষ ট ধ য় ব ত – বৃষ্টিধোয়া বাতাসের কারণে ঢাকার আকাশ অনেক সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধূলিকণা সমৃদ্ধ শহরটি তখন বৈষমান কমে মনে হয়। আবহাওয়া বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে নিয়ে যায় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও অন্যান্য বস্তুকণা। ফলে বাতাসে কণার মোট পরিমাণ কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের মনে হয় যে, বর্ষাকালে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়েছে।
আবার চোখে পড়ে এই স্বচ্ছতার আড়ালে ব্ল্যাক কার্বন এক অদৃশ্য ক্ষতিকর দূষণ হতে পারে। বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন রসায়ন বিভাগ বায়ুদূষণ গবেষণায় চার দশকের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় পরমাণু শক্তি কেন্দ্র বাতাসের গুণমান পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
বৃষ্টি জনিত অপসারণ বা ওয়েট ডিপোজিশন বৃষ্টিধোয়া বস্তুকণার কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। যদিও কণাগুলো ধুয়ে ফেলে বাতাস সুন্দর হয়, তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সমানভাবে কমে না। ব্ল্যাক কার্বন দহন থেকে উৎপন্ন কণার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু প্রভাবিত হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু উপর প্রভাব
ব্ল্যাক কার্বন প্রায় সম্পূর্ণভাবে জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহন থেকে উৎপন্ন হয়। যানবাহনের ডিজেল ইঞ্জিন, ইটভাটা, শিল্পকারখানা, কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানি, কাঠ ও বায়োমাস পোড়ানো এর উৎস। কণা শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের গভীর অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তনালি পর্যন্ত ছুঁড়ে দিতে পারে। ফলে সিস্টেমিক প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এই ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণশ্রমিক, পথচারী, সড়কের পাশে দোকানি, শিশু গণপরিবহনের ধূলিকণা সংস্পর্শে আসে। এর কারণে সারা দেশের মানুষ স্থায়ী স্বাস্থ্য উদ্বেগে ভুগে।
ব্ল্যাক কার্বন জলবায়ুর উপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে থাকে, কিন্তু ব্ল্যাক কার্বন স্বল্পস্থায়ী হলেও প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর। এটি সূর্যালোক শোষণ করে তাপ উৎপন্ন করে। ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং বৃষ্টিপাত ধরন পরিবর্তন হতে পারে।
বিশেষত মেঘ ঘন