কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা?
ক থ য় হ র য় য – বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধরে রাখার দায়িত্ব আছে সেই রাষ্ট্রের প্রশ্রুতি হিসেবে মনে হয়। যে জাতি তার তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না, সেই জাতিই আগামী দিনের সভ্যতা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটাতে পারে।
এইচএসসি পরীক্ষার নীরব বিপর্যয়
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটের সূত্রপাত করেছে। প্রায় ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। সংখ্যার আলোকে এটি প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ তরুণের বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান কখনো কখনো খুব নির্মম হয়। সেখানে চোখের জল, অপূর্ণ স্বপ্ন কিংবা একটি পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম আড়ালে থাকে।
দুই বছর আগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে মাত্র সাড়ে ৯ লাখ বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য ও মানসিক চাপের কারণে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ স্বপ্ন ও সম্ভাবনার অপচয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সবচেয়ে জোরে বলা হয়েছে যে এই সংকট কেবল পরীক্ষার ফলকে বিচার করলে চলবে না; এটি মানবসম্পদ বিকাশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় গতিশীলতার প্রশ্ন।
শিক্ষার পথে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কারণ
বিশ্বাসের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বহু তরুণের জন্য শিক্ষা হারানোর অপরিহার্য কারণ হিসেবে পরিবারের আর্থিক দুর্বলতা ও সামাজিক চাপের উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে বহু কিশোরী বিয়ের মধ্য দিয়ে শিক্ষার পথ থেকে সরে আসে। বাল্যবিবাহের কারণে গত বছর অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের গণনায় বেশি শতাংশ মেয়ে দেখা গেছে। এই ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী হারানোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা উদ্যোক্তার ভবিষ্যতের নিশ্চিততা হারানো।
পরিবারের উপার্জনের দায় কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সন্তানের শিক্ষার ব্যয় সহ্য করতে পারছে না। বহু পরিবার এখন কলেজে পাঠানোর