Bangladesh

বাজেট ছোট হলেও প্রত্যাশা বড়, বিসিসির প্রাক-বাজেট সভায় নানা দাবি

ব জ ট ছ ট হল ও - টানা দুই অর্থবছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজেটের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে নগরবাসীর সমস্যাগুলো—জলাবদ্ধতা, যানজট এবং পানির সংকট—সমাধানের

Desk Bangladesh
Published July 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Michael Brown - banglabeacon.com

বিসিসির প্রাক-বাজেট সভায় নাগরিকদের দাবি ও পরামর্শ

Banglabeacon.com – ব জ ট ছ ট হল ও – টানা দুই অর্থবছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজেটের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে নগরবাসীর সমস্যাগুলো—জলাবদ্ধতা, যানজট এবং পানির সংকট—সমাধানের দাবি আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে আরও বাস্তবসম্মত ও নাগরিককেন্দ্রিক করতে বুধবার বিকেলে সিটি করপোরেশন একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সভার বিবরণ ও অংশগ্রহণকারীরা

‘নাগরিক ভাবনা’ শিরোনামে এই আলোচনা সভায় রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। নগর ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভার সভাপতিত্ব করেন বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। সভায় বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট ও উন্নয়নের দাবি

সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একটি শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। তাই আগামী বাজেটে এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা সরাসরি নাগরিক জীবনের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া বিষয়টি হলো নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা। বক্তারা বলেন, দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধার ছাড়া স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। পাশাপাশি নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ ও নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয়।

নগর উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ১১ কিলোমিটার বাঁধ, ওয়াকওয়ে ও সাইকেল লেন নির্মাণের দাবিও জোরালোভাবে ওঠে। একই সঙ্গে বরিশালের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন অংশগ্রহণকারীরা।

রাজস্ব বৃদ্ধি ও বাজেট প্রত্যাশা

বক্তারা আরও বলেন, উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেটের আকার ক্রমান্বয়ে কমছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান এই নগরীর উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের বরাদ্দের আকার কেমন হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নগরবাসী।

বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হবে। তবে নাগরিকদের প্রতিটি সুচিন্তিত পরামর্শ ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও নাগরিকবান্ধব বাজেট উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা।

সমাপনী বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এই কথাগুলো বলেন।

Leave a Comment