প্লট বরাদ্দের নামে প্রতারণার অভিযোগে বেস্টওয়ে ও ১৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা
Banglabeacon.com – ব স টওয় র এমড সহ ১৭ – অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান ও পরিচালকসহ মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দের নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বনানী থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযুক্তদের তালিকা ও অভিযোগের বিস্তারিত
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান (বয়স ৬১), চেয়ারম্যান তানভিয়া সুলতানা তানভী (৪৯) এবং পরিচালক মো. মোমেন (৬৫)। তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেস্টওয়ে ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, গ্রেট ওয়াল ল্যান্ড প্রোপার্টি লিমিটেড, বেস্টওয়ে পাওয়ারটেক লিমিটেড, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে কো-অপারেটিভ কমার্শিয়াল ক্রেডিট লিমিটেড, নভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেস্টওয়ে মোটরস লিমিটেড, বেস্টওয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনকিউবেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে ন্যাশনওয়াইড হাউজিং লিমিটেড, এনআরবি টাউন লিমিটেড, বেস্টওয়ে এগ্রো লিমিটেড, বেস্টওয়ে টাইমস সিটি লিমিটেড, বেস্টওয়ে জেমি ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, গ্লোবাল কানেক্ট বিডি লিমিটেড, হেরিটেজ হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং বেস্টওয়ে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিটেড।
অনুসন্ধান ও আর্থিক লেনদেনের বিবরণ
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রূপগঞ্জ থানাধীন বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্লট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিস্তিতে বিপুল অর্থ গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও গ্রাহকদের প্লট দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, প্লট বরাদ্দের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্রাহকদের শুধুমাত্র জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে সাব-কবলা দলিল প্রদান করা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রতিশ্রুত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে কয়েকজন গ্রাহক সিআইডিতে অভিযোগ করলে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে এই মামলা করা হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্রহণ করা অর্থ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৮২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এসব ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ওই সময়ে ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে প্রদত্ত সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব নথি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। সিআইডি কোনো আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমির কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ প্রদান না করার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।
