মুস্তাফা মনোয়ার: সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি
শ ল প ম স ত ফ – বাংলাদেশে স্বাধীনতার যুদ্ধে অবদান রাখা, ভাষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিল্প ব্যবহার করা, শিশুদের জন্য রঙের সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং সংগ্রামী সৃষ্টি করেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর আঁকা ছবি বাঙালি শিশুদের মনে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান দখল করেছে। দীর্ঘ চার দশকের জীবনে তিনি কোনো সময় নিজের শিল্প গুণে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন না।
ছাত্র শিশুমনের শৈশব
বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রদর্শনীতে তাঁর ছবি প্রকাশিত হওয়ায় জনপ্রিয়তা পায়। মুক্তিযুদ্ধ সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাস করতেন তিনি। সেই সময় সংস্কৃতি কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর হাতে ছিল। শিশু হাতে তাঁর শিল্প চর্চার জন্য ভারতে নানা স্থানে সাংস্কৃতিক কর্ম করেন।
ভাষা সংগ্রামের দৃষ্টান্ত
নবম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেফতার হন তিনি। একের পর এক ছবি আঁকতে অব্যাহতি ছিল তাঁর ভাষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে। বিশেষ করে পাকিস্তান দিবস ছিল তাঁর গণসংগীত নিয়ন্ত্রণের সময়।
“১৯৭১-এর মার্চে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে টেলিভিশন থেকে ফজল-এ-খোদা রচিত ও আজাদ রহমান সুরারোপিত ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম, চলবে দিনরাত অবিরাম’ গানটির প্রচারের জন্য তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন। গানটি দশজন শিল্পী গেয়েছিলেন কিন্তু প্রচারের পর দর্শকদের মনে হয়েছিল যেন কয়েক শ শিল্পী একত্রে গাইছেন।
পাপেট প্রকাশের অবদান
শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার বাঙালি শরণার্থীদের মানসিক শক্তি বাড়াতে পাপেট শো আয়োজন করেন। পাকিস্তানি বাহিনী ব্যঙ্গ করে ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ব্যক্ত করে তিনি শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন। কোনোদিন তাঁকে ভুলতে পারে না বাংলাদেশের শিশুদের কাছে।
শিশুমনে কর্ম করা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে স্বাধীনতাকামী সাংস্কৃতিক কর্মের সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইতে। মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিনের ধারণকৃত ফুটেজে এবং তারেক মাসুদের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘মুক্তির গান’ এও তাঁর কাজের প্রমাণ রয়েছে।