কবি ভাস্কর চৌধুরীর নীরব প্রস্থান
কব ভ স কর চ ধ র – আশির দশকের সাহিত্য বিশ্বে প্রতিভাবান কবি ও কথাসাহিত্যিক ভাস্কর চৌধুরী নীরব ভাবে সাহিত্যের দুনিয়া থেকে চলে গেলেন। তাঁর সাহিত্যিক কর্মকাণ্ডের স্থায়ী আলোকে আদিবাসীদের জীবনের সমাজ ও পরিবেশ রয়েছে। কবিতা তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রধান বিষয় ছিল, যেখানে তাঁর কর্মে সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় ও ধর্মীয় বিশ্বাস সংক্ষিপ্ত করে তুলে ধরা হয়েছে।
সাহিত্যমহলে তাঁর বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেছে ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ শীর্ষক কবিতাটি। দুই বাংলার অনেক প্রখ্যাত আবৃত্তি শিল্পী তাঁর লেখার মূল বিষয়বস্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও মানুষ তুলে ধরেছেন। তাঁর জন্মশহর ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী শহরে। এই কারণে তাঁর সাথে বরেন্দ্রভূমি ও স্থানীয় আদিবাসীদের গভীর সম্পর্ক ছিল।
সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়
ভাস্কর চৌধুরী নানা সময় সাঁওতাল পল্লীতে থেকেছেন। তাঁর লেখার মাধ্যমে সেই জাতির ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষ্টি ও নৃতত্ত্বের চিত্র বিস্তারিতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি স্থানীয় কথ্য বাংলা ও সাঁওতালি ভাষার গান ব্যবহার করেছেন উপন্যাসে। সাঁওতাল অনুষ্ঠানে হাজার বছরের সাঁওতালি গান ছিল তাঁর সাহিত্যের অংশ।
“১৯৯৭ থেকেই আদিবাসী চরিত্র চিত্রণের চেষ্টা চলছে আমার লেখায়।”
লেখক তাঁর সিগনেচার উপন্যাস ‘ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ’ লিখেছেন যা প্রকাশিত হয়েছে ২০১৫ সালে। উপন্যাসটি সাঁওতালদের জাতিসত্তা, তাদের নৃতত্ত্ব ও সংস্কৃতি প্রকাশ করে। ধনসা মাতি হল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাঁর কাছে সাঁওতাল জাতির ইতিহাস ও অস্তিত্ব তুলে ধরেছে বিশ্বাস ও কৃষ্টির মাধ্যমে।
উপন্যাসের শুরুটি একটি মহাবয়ানের মাধ্যমে হয়েছে। এখানে লেখক বলেছেন: “ধনসা মাতি এক দুপুরে, যখন আদিগন্ত বরেন্দ্রে খরা, খাঁ খাঁ করছে চারদিক, বাউরি বাতাসে ধুলো আসমানমুখো—তখন সেই কালো গুমোট শূন্যতায় বায়ু ধুলোকে পাক দিয়ে উড়িয়ে জনপদের দিকে আসছিল। ল্যাংটা কিছু কালো বাদুর বাচ্চার মতো ছেলেমেয়ে দৌড়ে দৌড়