সংবাদ ও জহুর ভাই আমাদের সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
স ব দ ও আম দ র – ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লেখা একটি লেখায় সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে শ্রদ্ধেয় জহুর ভাইর কথা। তিনি সাংবাদ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে ১৯৫৪ থেকে একাত্তর মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্যন্ত কাজ করেন প্রায় ১৭ বছর। এ সময় বাংলাদেশের বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন পর্বে বাঙালি জাতির জাতীয়তাবাদী চেতনা দৃঢ় হয় এবং সামরিক শাসনের কারণে গণতন্ত্রের আন্দোলন বেগবান হয়।
জন্ম ও শিক্ষা
জহুর হোসেন চৌধুরী ১৯২২ সালে বর্তমান ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাদাত হোসেন চৌধুরী। কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৪০ সালে আই. এ. এবং ১৯৪২ সালে ইতিহাসে অনার্স সহ বি. এ. পাস করেন।
সাংবাদিক পরিচয়
১৯৪৫ সালে তিনি হাবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত বুলবুল পত্রিকায় সাংবাদিকতার শুরু করেন। পরবর্তীতে কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান, কমরেড এবং স্টার অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং সরকারি চাকরি করেন। পরে পুনরায় সাংবাদিকতায় ফিরে আসেন এবং উপাত্ত বাংলা পত্রিকা এবং পাকিস্তান অবজারভার ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন।
সংবাদ পত্রিকার নেতৃত্ব
১৯৫১ সালে সংবাদে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন জহুর হোসেন চৌধুরী। দেশের গণতন্ত্র ও প্রগতি আন্দোলনের খবর সাময়িকীর পাতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ১৯৫৪ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনির হামলার ফলে বংশাল রোডে সংবাদের কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়া হয়। পত্রিকার প্রকাশনা ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তিনি আজীবন সংবাদের পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি নেন এবং ‘কাউন্টার পয়েন্ট’ ইংরেজি সাময়িকীর সম্পাদক হিসেবে নতুন কর্ম গ্রহণ করেন।
দরবার-ই-জহুর কলাম
১৯৭৫ সালের শেষ দিকে তিনি তাঁর পরিচিত কলাম ‘দরবার-ই-জহুর’ লিখতে শুরু করেন। কলামটি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং পাঠকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রথম সপ্তাহে কলামটি একবার প্রকাশিত হতো, পরবর্তীতে সপ্তাহে দুই দিন লেখা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি তাই লিখে গেছেন।