Bangladesh

মার্ক টালি ও ‘নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা’

Techtaranga.com_17816364945166

মার্ক টালি ও নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা

Banglabeacon.com – ম র ক ট ল ও ন – বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাশে দাঁড়ানো জনপ্রিয় সাংবাদিক মার্ক টালি একাত্তরে মৃত্যুর পর বিশেষ চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি একজন বিশিষ্ট বিবিসি সংবাদদাতা ছিলেন যার কাজ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আলোচনা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

মার্ক টালি প্রকাশ করেছিলেন যে ভারতের টিভি সাংবাদিকতা তাঁর মতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রিত। তিনি বলেছিলেন, সংবাদপত্রগুলি শুধুমাত্র সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে খবর দিয়ে কাজ করছে। সরকার কী লেখা যাবে কী নয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি মনে করেন এটি সাংবাদিক স্বাধীনতার মূল বিপর্যয়।

তৃণমূল কী ভাবছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে না। কোনো গণমাধ্যম ফলোআপ করতে আগ্রহ দেখায় না। শুধুমাত্র দুটি প্রতিবেদন করে দায়িত্ব শেষ করে যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে অঘোষিত জরুরি অবস্থা ঘোষিত চেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বিপর্যয়

মার্ক টালি বলেছিলেন যে সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানগুলি রাষ্ট্রীয় বাধা কাটাতে অক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হলে পত্রিকাগুলির দাম বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পাঠক বিনা মূল্যে তথ্য পায় বলে সেটি বাস্তবসম্মতি অর্জন করতে পারে না।

বিবিসি সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়েছে কারণ টেলিভিশন লাইসেন্স ফি দিয়ে চলছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংবাদপত্রের বড় সমস্যা হলো বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয় এবং তার ওপর নির্ভর করে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি মনে করেন যে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান ও বিবিসি স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠা করে। তার মতে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হয় যখন সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল হয়ে পড়ছে। মুদ্রিত মাধ্যমের স্বাধীনতা কমে পড়ছে এবং সরকার তাদের তদন্ত সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

ইন্দিরা গান্ধীর আমলে জরুরি অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। কুলদীপ নায়ার সহ অনেক সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছিল। বিবিসি সরকারের সমালোচনা করায় তিনি লন্ডনে ফেরত যেতে হয়েছিল।

মার্ক টালি মনে করেন যে ভারত ও ব্রিটেনে গণমাধ্যমের সংকট অনেক বেশি গভীর। তিনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই সমস্যার সাম্যতা দেখিয়েছেন। ক্ষমতার বদল হওয়া সত্ত্বেও সরকারের গণমাধ্যম সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদল হয়নি। সাংবাদিকদের প্রতি সংশয় বিদ্যমান। সংবিধানে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যক্রমে তারা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *