পরশুরামে বেড়িবাঁধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
পরশ র ম ব ড় ব ধ – ফেনীর পরশুরাম উপজেলার কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ধৈর্য শেষ হচ্ছে। এলাকার মানুষ বলছেন, ভারতের অংশে কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ অংশে কোনো প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পরশুরামের উত্তরে ভারতের আমজাদনগর সীমান্তবর্তী এলাকায় রাষ্ট্রদ্বন্দ্র চুক্তি অনুসারে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চালু হয়েছে। গত ১৫ দিনে ভারত তাদের অংশে কাজ করছে বলে খবর পৌঁছেছে।
বর্ষা মৌসুমে নদী পানি ও বন্যার চাপ বাংলাদেশ অংশে বেড়াতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করছেন, নোয়াখালী জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়। মোস্তফা খোকন বলেন, ভারতের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ হলে বাংলাদেশের পুরোনো বেড়িবাঁধ আরও অস্থিয় হয়ে পড়বে।
“গত বছরের বন্যার সময় স্থানীয়রা নিজেদের হাতে বাঁধ রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এবার বড় বন্যা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।”
উত্তর কোলাপাড়ার বাসিন্দা ইমরান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ইতিমধ্যে তাদের অংশে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অংশে কোনো কাজ দেখা যাচ্ছে না। তার মতে এতে নদীভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা সোহাগ আরও জানান, বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মনে আছে কয়েক বছর আগে নদী বন্যায় কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বেশি ঝুঁকি আছে বলে ভাবছেন।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
বাঁধ সংস্কার কাজে সম্মতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তির আওতায় সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। বল্লামুখা ও নিজ কালিকাপুর এলাকার সড়ক পূর্বে সংস্কার করা হয়েছে। ভারত কহুয়া নদী বরাবর তাদের অংশটি কাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের পদ্ধতি নিয়ে বিজিবি সঙ্গে আলোচনা চলছে। কাজ করা হবে সময় সাপেক্ষে মানুষের সুবিধার জন্য।