প্রবাসীর স্ত্রীর যত্নে বেড়ে উঠেছে মনা, দাম হাঁকছেন ১০ লাখ
প রব স র স ত র – বিয়ে হয়েছে কিছু বছর আগে। তবে সন্তানসুখ মেলেনি। স্বামী সাজ্জাদ গাজী জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছেন দুবাইয়ে। নিঃসন্তান জীবনের শূন্যতা ভুলতে প্রবাসীর স্ত্রী জলি খাতুন নিজের মাতৃত্বের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন একটি ষাঁড়ের পরিচর্যায়।
সাড়ে তিন বছর আগে শাশুড়ির কাছ থেকে একটি বাছুর উপহার পেয়েছিলেন জলি খাতুন। সন্তান না থাকায় বাছুরটিকে তিনি সন্তানের মতো যত্নে বড় করতে থাকেন। প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঘরের কাজের পাশাপাশি দিনের বড় একটি সময় মনার আরামে কাটে। অনুপস্থিত স্বামীর জন্য তার থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি। বিদ্যুৎ চলে গেলে জলি নিজেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস প্রদান করেন।
প্রচণ্ড গরমে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। শান্ত স্বভাবের মনার সঙ্গে জলির গড়ে উঠেছে আত্মিক বন্ধন। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়ের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।
জলি খাতুন বলেন, কোনো কৃত্রিম উপায় বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মনাকে বড় করা হয়েছে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা নেপিয়ার ঘাস, ছোলা, ভুট্টা, গম, খেসারির ভুসি ও চিটাগুড়। বর্তমানে প্রতিদিন খাবারের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ টাকা।
বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়ের দাম তিনি আশা করছেন ১০ লাখ টাকা। কোনো হাটে না নিয়ে বাড়ি থেকেই ষাঁড়টি বিক্রি করতে চান তিনি। সন্তানের মতো লালন করা এই ষাঁড়ের চাহিদা অনেক বেশি রয়েছে বলে জলি খাতুন অনুমান করেন।
সোন্দা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, জীবনে এত বড় গরু তিনি আগে দেখেননি। ইন্টারনেটে বড় গরুর ছবি বা ভিডিও দেখলেও বাস্তবে এত বড় গরু এই প্রথম দেখলেন। তিনি বলেন, জলি অনেক কষ্ট ও যত্নে গরুটি লালন করেছেন। গ্রামের মানুষ চান, এবার ভালো দামে বিক্রি হোক ‘মনা’।
আরেক বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, জলি অনেক কষ্ট করে গরুটি বড় করেছেন। কিন্তু বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় হাটে নিয়ে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ক্রেতারা যেন সরাসরি বাড়িতে এসে গরুটি কিনে নেন, সেটিই চান তারা।
ভাটই এলাকা থে