এমপিও ব্যবস্থার সুবিধা ও প্রশ্ন
এমপ ওভ ক ত শ ক ষ – বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ পরিচালনা করে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুযায়ী দেশে মোট ২৬ হাজার ৯৩টি এমপিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮ জন। এমপিও তথ্য প্রসঙ্গে আর্থিক সুবিধার প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হয়েছেন।
সরকারি সমর্থন ও স্থিতিশীলতা
বেসরকারি শিক্ষার শিক্ষকদের কোনো বেতন স্কেল ছিল না যখন স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। পাকিস্তান আমলে তারা সরকারি কোষাগার থেকে স্বল্প পরিমাণ মাসিক ভাতা পেতেন। স্বাধীনতার পর ভাতার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘদিন একই পদ্ধতি বহাল ছিল। সে সময় থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের শতকরা ৫০ ভাগ সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া শুরু হয়।
ব্যবস্থার ইতিহাস ও পরিবর্তন
১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এমপিও প্রথা চালু হয়। সেই বছর থেকে সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে সরকারি অংশ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০০৬ সালে সরকার ১০০ শতাংশ মূল বেতন প্রদান শুরু করে। এটি বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘ সংগ্রামের বড় অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হয়।
২০২২ সালে অবসর সুবিধা ও উৎসব ভাতা চালু হয়। শুরুতে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা প্রদান করা হলেও বর্তমানে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আরও বড় সুবিধা বাড়ানোর আশা রয়েছে যার ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জনবল কাঠামো ও টাইমস্কেল সুবিধা সংরক্ষণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
অবসর ও উৎসব ভাতার প্রস্তাবের সাথে সাথে এমপিও স্থিতিশীলতার মাপকারীগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার জায়গাটি কিছুটা ধীরে ধীরে আলোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। এমপিও নীতি অনুসারে শিক্ষার্থীদের বেশি সংখ্যক কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ায় কার্যকারিতা উন্নয়নের সাথে সাথে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও উঠছে।
সরকারি সমর্থন বৃদ্ধির পরিণতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনবল ও সংস্থানের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক ভার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের সংখ্যালোপে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যা এমপিও প্রথার প্রাথমিক লক্ষ্যের মাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বাংলাদেশের এমপিও ব