সংক্রামিত গৃহবেদনা: একুশ শতকের নিঝুম হেরেমের জেরক্স
স ক র ম ত গ হব – অণুজীবের বিপ্লব ঘটে, যারা ক্ষোভে ভাঙবার জন্য আন্দোলন জাগায়। তারা যেমন মহামারি বলে নাম করে, তেমনি হৃদয়ের উত্থান কী নামে ডাকা যাবে? হৃদয়মারি বলে অভিহিত হয়ে থাকা বাস্তব পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মুক্তির প্রতি সম্প্রতি যে বিপর্যয় আঘাত করে, তার প্রতিকূলতা কবি তুলে ধরেন।
গৃহ হল কেবল এক স্থান নয়, এটি রক্ত-মাংসের গৃহ, অবদমিত অনুভূতির ছাপচিত্র গ্যালারি। ক্ষতিগ্রস্ত হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে দেখা যায় যে বিপ্লব হয়েছে কত পরিমাণে মানসিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সম্পর্কের প্রতিটি গোঁফ যেন ক্ষত হয়ে গেছে, অতিমারি কিংবা নিঃশব্দ অনুতাপে পুড়ে যায়।
জীবনের ক্রমাগত বিপ্লব
আধুনিক জীবনে সম্পর্ক হালকা কলাহলের চেয়ে গভীর গহিন হয়েছে। প্রাণ ও বিপর্যয়ের মিশ্রণে নদীর উচ্ছল ঢেউ যেন ক্যাওসে রূপ নেয়, এতে আকীর্ণ হয়ে যায় মানসবেদনার জল। ভালোবাসা, ভয় ও অবিশ্বাস পাশাপাশি ভেলার মতো ভাসতে থাকে এই বিপর্যয়ের প্রতিটি পরিস্থিতি। বিষাক্ত নীরবতার সম্পর্কে রাষ্ট্রের হত্যাবিদ্যার উৎসব বুঝে এসে এক মহাজাগতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে মানুষের অস্তিত্বগত উদ্বেগ।
গর্ভাশয়ের ভিতর রক্তকবরী ফুল / অন্ধকারের যোনি ছিঁড়ে আলোয় আসার পর / হাতে থাকে একগুচ্ছ ভুলের তোড়া !
এই যুগে দুনিয়া যেন সংক্রামিত গৃহবেদনার চাপে বিপর্যয়ের মতো দুঃখ ভোগ করে। কবি সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় বুঝেছেন যে মানুষের বোধোহয় কত গভীর অনুভূতি নিয়ে থাকে। আপনার কাছের মানুষেরা যে অবহেলিত হতে হতে বিলীন হয়ে যায় তাদের অস্তিত্ব। বিক্ষিপ্ত হৃদয়ে অবিদীর্ণ দেয়ালে ঘেরা প্রতিটি অনুভূতি যেন অবিশ্বাসের প্রতিটি পরিচয় বিস্তৃত হয়ে যায়।
নির্জীবের মূল্য জীবনের চেয়ে বেশি
মাহফুজা অনন্যার কবিতাগুলো বিষাক্ত কলহ প্রকাশ করে এমন সম্পর্কে হৃদয় তার পরিচয় করে যে বোধোহয় নিয়ে থাকে। জল পাথরকে ডুবিয়ে দিতে পারে, কিন্তু তাকে ভেদ করতে পারে না। তার অস্তিত্বের মুখোমুখি হয়েছে মানুষের সংক্রামিত হৃদয়বেদনা।