Bangladesh

৫ বন্ধু নদীতে নামল, ফিরল শুধু ৩ জন

৫ বন ধ নদ ত ন মল - গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীতে ৫ বন ধ নদ ত ন মল - গোসল করতে গিয়ে দুই মাদ্রাসাছাত্রের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই)

Desk Bangladesh
Published July 31, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Patricia Jackson - banglabeacon.com

শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ

Banglabeacon.com – ৫ বন ধ নদ ত ন মল – গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীতে ৫ বন ধ নদ ত ন মল – গোসল করতে গিয়ে দুই মাদ্রাসাছাত্রের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের চরসিন্দুর ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই নদীতে অনেক মানুষ স্নান করতে আসছিলেন। এই সময় পাঁচজন বন্ধু মিলে নদীতে নামলেও দুইজনের আর ফেরা হয়নি।

নিহতদের পরিচয় ও শিক্ষাজীবন

মৃত্যুপ্রাপ্ত শিশু দুইজন হলেন মোক্তারপুর ইউনিয়নের আতাউর শেখের ছেলে লাবিবুল আল হাসান (১০ বছর) এবং কাপাসিয়া উপজেলার দ্বিনাসেরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র রাহান ইসলাম রাব্বি (১২ বছর)। উভয়েই স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। লাবিবুল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং রাহান সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীতে স্নান করতে যাওয়াটা তাদের নিয়মিত অভ্যাস ছিল। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন দুপুরের পর নদীতে নামা তাদের পছন্দের কাজ ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকালবেলায় পাঁচজন বন্ধু মিলে চরসিন্দুর ব্রিজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে স্নান করতে নামে। এই সময় লাবিবুল ও রাব্বি নদীর গভীরে তলিয়ে যায়। অন্য বন্ধুরা তীরে ফিরে এলেও তাদের দেখতে না পেয়ে চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়ে গেছে। নদীর স্রোত বেশ তীব্র ছিল এবং দুই শিশু সঠিকভাবে ভাসতে পারেনি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা নদীতে তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। অন্যদিকে, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই দুর্ঘটনায় থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

শীতলক্ষ্যা নদীতে স্নান করতে গিয়ে শিশুদের মৃত্যু কোনো নতুন ঘটনা নয়। প্রতি বছরই এই নদীতে অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডুবে মারা যান। নদীর স্রোত তীব্র হওয়া এবং গভীর অংশে নামা এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে ছোট শিশুদের একা নদীতে নামতে দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়ই দেখা যায়, ছোট শিশুরা বড়দের অনুসরণ করে নদীতে নামে কিন্তু স্রোতে আটকা পড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা নদীতে সতর্কতা বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা শিশুদের নদীতে নামার সময় বড়দের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলছে। এছাড়াও, নদীর গভীর অংশে নামা থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও নদীতে সতর্কতামূলক বোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে স্থানীয়রা খুবই দুঃখিত। তারা চাইছেন যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

Leave a Comment