স্বাক্ষর মিললেই কি চেকের মামলায় জেতা যায়?
স ব ক ষর ম লল ই – আইনের নির্দিষ্ট ধারাগুলি মামলার ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বাক্ষরের উপর ভর করে ফেলে। উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়গুলি এবং ফরেনসিক বিজ্ঞানের উন্নতি এই ধারণাকে গৃহীত হওয়ার পরিবর্তে নতুন প্রমাণ তুলে ধরেছে। এখন আর ফাঁকা চেকে নিজের ইচ্ছেমতো সংখ্যা বসিয়ে জেতা সহজ নয়।
যুগান্তকারী রায়ের প্রভাব
১৩৮ ধারার মামলাগুলি সাধারণত আসামিদের স্বাক্ষরের দ্বারা চেক বৈধতা পেতে দেয়, কিন্তু বাদীদের তা প্রমাণ করতে হবে। আসামির স্বাক্ষর, টাকার পরিমাণ এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতে লেখায় থাকলে চেকটি ইস্যুয়েন্স অব চেক হিসেবে গণ্য হবে না। উচ্চ আদালত এই হাতিয়ারের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে।
“আসামির স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখায় থাকলে এন.আই অ্যাক্ট-এর ধারা ৩ (ই) অনুসারে উহাকে ‘ইস্যুয়েন্স অব চেক’ বলা যাবে না এবং অনুরূপ চেক আইনানুগভাবে বৈধ নয়।”
৭৫ ডিএলআর, পৃষ্ঠা ৪৪৭ (এ.এইচ. এরশাদুল হক বনাম রাষ্ট্র) মামলায় আদালত বাদীদের জবাব দিতে হবে কেন চেকটি ড্রয়ার নিজে পূরণ করেনি। অন্যের হাতে চেকে পরিবর্তন করা হলে তা প্রমাণের সুযোগ আসামি পেতে পারেন। আদালত এই হস্তাক্ষরের ভিন্নতা নিয়ে আলোচনা করেছে যে পরিবর্তনগুলি চেকের মূল চরিত্র বদলে দেয়।
ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োগ
চেকের কালি এবং হস্তাক্ষর যে কোনো পরিবর্তন ছাড়া বৈধতা পেতে পারে। কিন্তু চেকের কালি ভিন্ন হওয়া বা লেখা সময়ে ভিন্ন হওয়া হলে আদালত তা প্রমাণ করতে বাধ্য। সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৩ (২) ধারা অনুযায়ী এই পরীক্ষা আসামির অধিকার।
টি. নাগাপ্পা বনাম ওয়াই.আর. মুরলিধর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেছেন যে শুধু অনুমানের ওপর ভর করে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন করা যাবে না। ফরেনসিক ল্যাবে চেকের কালি ও হস্তাক্ষর পরীক্ষা করে আদালত নিশ্চিত হবে যে চেকটি ড্রয়ার কর্তৃক তৈরি হয়েছে কিনা।
মহামান্য আপিল বিভাগ ৭১ ডিএলআর (এডি)-তে সিকিউর