সীমান্ত থেকে গ্রামে মাদকের মরণকামড়
স ম ন ত থ ক গ – রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত এলাকা ঘেঁষা আটটি জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মাদকসেবী এবং বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে মাদকের বিরুদ্ধে নীল দংশন কেবল একজন ব্যক্তিকে শেষ করছে না, ধ্বংস করে দিচ্ছে পুরো পরিবারকে।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর চোরাচালান সিন্ডিকেট থেকে মাদক ঢোকানোর প্রক্রিয়া প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। যুবসমাজ এবং তরুণদের মধ্যে মরণনেশার আসক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংঘবদ্ধ চক্রগুলো নেশার টাকা জোগাড় করতে ঘরের জিনিসপত্র চুরি থেকে শুরু করে ছিনতাই, ডাকাতি পর্যন্ত সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
পুলিশের কঠোর অভিযান
সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, বলে ডিআইজি জানান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে। মাদকের টাকা জোগাতে অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্রসমূহ যেমন বার্মিজ চাকু।
“মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। তা অব্যাহত থাকবে। টার্গেট রাজশাহী বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো মাদক নির্মূল করা। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে। মাদক উদ্ধার হয়েছে।” – পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
শাহজাদপুর থানায় ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩০ জনকে তাৎক্ষণিক জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ১২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চতুর মাদক কারবারি ও সেবীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে অভিযানের মুখে।
মাদকের নীল দংশন থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্ত থেকে গ্রামে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা অভিযান মনিটরিং করা হচ্ছে। সীমান্ত গলিয়ে আসা বিষাক্ত ছোবল থেকে শিশুদের মুক্তি করতে এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হবে বলে জানান পুলিশের ডিআইজি।