রম্যগদ্য: দুঃস্বপ্নে ভরা বাংলাদেশ
রম যগদ য – বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি এমন স্বপ্নে ভরা হয়েছে যে একদিন বিশ্বকাপে ফুটবল খেলতে পারবে? কিছু মানুষ ক্ষুধিত অবস্থায় চুপ করে না দেখছে সে দিন, অনেক দিন আগে একটা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু এখন এটা কেবল আরেকটা অদূর দুঃস্বপ্ন মনে হয়। দেশের জন্য এটা কি চলের মতো নাকি উড়ের মতো এক জায়গায় বয়া বয়া দিবাস্বপ্ন দেখে না?
“ওই জঙ্গল এই যে তোদের আর্ন্তজাতিক মানের লোকাল ফুটবলার, সামজা না গামজা, প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমে বলছেন, ‘আমরাও একদিন বিশ্বকাপ খেলবো’”
সেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখতে চাইছে বাংলাদেশ, যেখানে ভারতের ১৪০ কোটি লোক, পাকিস্তানের ২০ কোটি এবং বার্মার ১০ কোটি মানুষ আছে। কেপ ভার্দে মাত্র পাঁচ লাখ অধিবাসী তারা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আর আমরা বিশ্বকাপ খেলার পারে না কিন্তু একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন যে বাঙালি হয়ে কবে এটা সম্ভব হবে।
“তয় কেপ ভার্দে কি জাদু টোনা করছে, নাকি গাঞ্জা খায়া ফুটবল খেলছে?”
জাদু টোনা করছে ওদের কাছে না কেবল স্থিতিশীল গণতন্ত্র, সুশাসন ও শিক্ষা হলো সফলতার মূল চাবি। কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। আর তোমরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা পেলে ১৯৭১ সালে। ওরা তোমদের চেয়ে চার বছরের পরে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু আজ ওদের কাছে বিশ্বকাপের খেলা চলছে।
“ভাই হ্যেইয়া তো মুই কমু দুই’ একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা…”
সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রতি সমালোচনা করা হয়েছে যে বাঙালি হয়ে বাঙালির নিহত হয়েছে। তিন মাস আগের কবর দেয়া মুসলমানের লাশ তুলে পোড়াচ্ছে বলে অভিহিত হয়েছে। যে ঘটনা দেশের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন আজ সারা দেশ জর্জরিত। তবে কিছু মানুষ নিজের পৃথিবীটাকে হাবিয়া দোজখ বানিয়ে তুলছে যে তোমরা নিজে নিজে মারামারি করছো এবং মৃত হয়ে মৌজ করছো।
“আপনের কথা হুনি আরে ইকটু শরম লাগে কিন্তু আমারা তো বেহায়া, অশিক্ষিত, আপনের ভাষায় তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশের বাসিন্দা তাই কোই কী, মানুষ হোইলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলমু, যতনি মানুষ হমু না ততদিন ব্রাজিল আর আর্জেটিনা নিয়া নিজেগো গ্যাঁটের পয়সা খরচ কোইরা দুই মাইল লম্বা পতাকা বানামু আর মনের আনন্দে নাচনাচি করমু।”