বিশ্বের যেসব শহরে এক মিনিটেই সরে যায় বৃষ্টির পানি
ব শ ব র য সব শহর – ঢাকায় বৃষ্টি হলে শহরটির অনেক সড়ক আগে থেকে জলপূর্ণ হয়ে ওঠে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে পানি জমে অলিগলিতে। নিচু এলাকাগুলোতে ঘরে আছড়ে পড়ে বিষাক্ত ঢেউ ঘটে। অফিস ছুটির সময় বৃষ্টি হলে মানুষ ছাতা খুঁজে খুঁজে বিকল্প পথ খুঁজে পায়।
বিশ্বে এমন শহরও রয়েছে যেখানে ভারী বৃষ্টি দুই মিনিটের মধ্যে পানি আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এটি দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার ফল। নেদারল্যান্ডসের শহরগুলো পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আসা। সেখানে বৃষ্টি পানি দ্রুত সংগ্রহ ও নিষ্কাশন করা হয় যথাসাধ্য ব্যবস্থা।
টোকিও আরেকটি বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত। শহরের নিচে নির্মিত ভূগর্ভস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো সাহায্য করে অতিরিক্ত পানি মুহূর্তের মধ্যে সুড়ঙ্গ ও রিজার্ভারে প্রবাহিত হয়। ফলে জাতি জীবন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
সিঙ্গাপুর বৃষ্টি প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা। কিন্তু শহরটির ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরো নগরকে একটি সমন্বিত জলব্যবস্থাপনা হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। পার্ক, খাল ও পাম্পিং স্টেশনগুলো সংযুক্ত। ফলে সড়কগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠে।
“এটাই আমাদের ভাগ্য।”
কোপেনহেগেন জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা মেনে শহরটি নতুন করে গড়ে তুলেছে। রাস্তা ও উন্মুক্ত স্থানগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে অতিরিক্ত পানি নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়। এতে বসতিপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা ঘটে না।
বিশ্বের বহু শহর আমাদের চেয়ে বেশি বৃষ্টি ও নদী ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে। তবু তারা নগরকে এমন করে গড়ে তুলেছে যেখানে বৃষ্টি জীবন থামায় না। একটি প্রশ্ন আছে—পরিবেশ প্রকৃতি কি ঢাকার বিরুদ্ধে? নাকি আমরা নিজেই শহরটিকে এমন স্থানে পরিণত করেছি যেখানে সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি নাগরিক জীবনকে নরকে ফেলে দেয়।
আবার দেখা যায় ঢাকার মানুষ নিজেদের ক্ষতি মেনে চলছে কিন্তু বিষয়টি ভাগ্যের বিষয় নয়। এটি পরিকল্পনার বিষয়। বিশ্বের অনেক শহর নীরবে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে জীবন চালিয়ে যায়। কিন্তু ঢাকায় খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে, জলাধার হারিয়ে গেছে