ঢাকার জলাবদ্ধতার ১০০ বছরের ইতিহাস
ঢ ক র জল বদ ধত র – বর্তমানে ঢাকার নাম শুনলে চোখে ভাসে নৌকায় চলাচলের ছবি। প্রাচীন সময়ে যে শহরে খালের পর খাল বয়ে যেত, সেই ঢাকার পরিবেশ এখন নিষ্কাশনের ওপর ভারসান হয়ে গেছে। জল ও ভূমি মিলিত হয়ে সমগ্র শহরের জীবন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার প্রাণ ছিল খালগুলো
ঢাকার জলাবদ্ধতার ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল প্রায় শতাব্দী আগে একটি ভুল সিদ্ধান্তের ফলে। মুঘল শাসনামলে এক সময় ঢাকা ছিল রাজধানী। নামটির সঙ্গে জড়িত ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সেই শহর যে সময়ে খাল ও নদী মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ ছিল, সেখানে আজকাল জল নিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে।
১৭০০-এর দশকে ঢাকা ছিল উভচর শহর। ধোলাই খালটি ছিল প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম। প্রতিটি প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত নৌকায় চলাচল করা সাধারণ। তবে ব্রিটিশ শাসনামলে সেই অবকাঠামো বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়। পানির বাহক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে খালগুলো ভরাট করা হতে শুরু করে।
প্যাট্রিক গেডেসের সতর্কবাণী
১৯১৭ সালে বিশ্ববিখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদ প্যাট্রিক গেডেস ঢাকায় আসেন। তিনি দেখেন যে তৎকালীন সরকারি প্রকৌশলীরা শহরের সাড়ে ১২ মাইল খাল ভরাট করা পরিকল্পনা করছেন। যার বিনিময়ে তারা মাত্র ৫০ একর জমি উদ্ধার করতে চাইছেন।
তিনি বলেছিলেন, এই খালগুলোই ঢাকার প্রাণ। এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে।
গেডেসের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি তুলে ধরেন যে খাল ভরাটের পরিবর্তে সংস্কার ও পুনরায় খনন করা উচিত। কিন্তু ব্রিটিশ প্রশাসন তার মতো গ্রহণ করেন নি। ফলে খাল ভরাটের কাজ শুরু হয়।
খালগুলো থেকে আবাসনের জন্য প্রাচীন প্রবাহের পরিবর্তে প্রবাহ অঞ্চল ভরে যায়
১৯৫০-এর দশক থেকে ঢাকার আবাসন ব্যবস্থা সাজানো হতে থাকে। খালগুলো ভরাট করে নতুন সড়ক ও বাস্তুবিদ্যা গড়ে উঠেছে। মিরপুর রোড, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, রামপুরা ডিআইটি রোড এসব সড়ক খাল ভরাট করে তৈরি হয়েছে। পরিবেশের একটি অংশ নগর পরিকল্পনা হিসেবে দখল করে নেওয়া হয়।
১৯৮৮ সালে ঢাকায় ভয়াবহ বন্যা আসে। রাজধানীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এর পর প্রকৌশলীদের মতে জলাশয় ও নিচু ভূমি ভরাটের দরুন জলাবদ্ধতার সমস্যা বৃদ্ধি পায়। নিষ্কাশনের এলাকা প্রায