Bangladesh

দক্ষিণ চট্টগ্রামে মানবিক বিপর্যয়, ত্রাণ সংকট চরমে

দক্ষিণ চট্টগ্রামে মানবিক বিপর্যয়, ত্রাণ সংকট চরমে দক ষ ণ চট টগ র ম - হাইলিয়া পানি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভয়াবহ

Desk Bangladesh
Published July 12, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

দক্ষিণ চট্টগ্রামে মানবিক বিপর্যয়, ত্রাণ সংকট চরমে

দক ষ ণ চট টগ র ম – হাইলিয়া পানি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে গিয়েছে। সরকারী তথ্য অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার মধ্যে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।

সাতকানিয়ায় প্রায় ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা জল ভেসে যাওয়ায় পরিবারগুলো আশ্রয় খুঁজে চলছে। বাঁশখালী ও লোহাগাড়ায় বিস্তীর্ণ জমি তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট, ফসলি জমি এবং মাছের ঘের সবকিছু পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

“আমাদের বাড়ির সবকিছু পানিতে চলে গেছে। তিন দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে চলেছি। বাচ্চাদের জন্য দুধ নেই, ওষুধ নেই,” বলেন সাতকানিয়া সৈয়দপুর গ্রামের আবুল হোসেন।

দুর্যোগের শুরু থেকেই উদ্ধার কাজে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জেলা প্রশাসন প্রায় ৫৫০ টন চাল ও ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে জরুরি ভিডিও কনফারেন্স করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার নির্দেশ দেন।

বন্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেসে গেছে। সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়ক বন্ধ হওয়ায় সেই জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ৯ হাজার হেক্টর আউশ ধান, ৪৯০৭ হেক্টর সবজি ও ৬৫২ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৎস্য খাতে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও ৩২০টি ঘের তলিয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯১ কোটি টাকা।

প্রাণিসম্পদে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। মারা গেছে অন্তত ২৩টি গরু, ৮৪টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার মুরগি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বর্ষায় দক্ষিণ চট্টগ্রামে এমন বন্যা হয়। নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের উন্নত ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই বেড়িবাঁধ না করলে এই দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা বাড়ছে জানিয়ে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Comment