পরীক্ষা অনিয়ম নিয়ে সোনম ওয়াংচুকের অনশন অব্যাহত থাকবে কেন্দ্রের আশ্বাস না আসা পর্যন্ত
Banglabeacon.com – ক ন দ র র আশ ব – প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টকালীন অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তবেই তিনি এই অনশন ভাঙবেন। বুধবার, অর্থাৎ ২২ জুলাই তারিখে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং-এর উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।
ওয়াংচুকের মতে, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তাই তিনি মনে করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা হরানি করা উচিত নয়। মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো জানান, বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রায় ৬৫ জন সাংসদের চিঠি পাওয়ার পর ওয়াংচুক অনশন ভাঙার বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। তবে এখনও কেন্দ্রের তরফে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার লিখিত আশ্বাস মেলেনি। সেই আশ্বাস পেলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।
দুটি অতিরিক্ত দাবি ও সরকারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
চিঠিতে ওয়াংচুক আরও উল্লেখ করেছেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে দেখা করতে এসে নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং তাঁর আরও দুটি দাবি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, কথিত নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংসদে অর্থবহ আলোচনা, যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও বিবেচনায় আনার কথা বলা হয়েছে।
সরকার প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিলে তিনি শুধু অনশনই ভাঙবেন না, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদেরও আপাতত আন্দোলন স্থগিত রেখে সরকারের সঙ্গে আলোচনার বসার আবেদন জানাবেন।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত বার্তায় ওয়াংচুক জানান, সরকার প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিলে তিনি শুধু অনশনই ভাঙবেন না, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদেরও আপাতত আন্দোলন স্থগিত রেখে সরকারের সঙ্গে আলোচনার বসার আবেদন জানাবেন। ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে ওয়াংচুক দাবি করেন, পুলিশের বলপ্রয়োগ সত্ত্বেও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। তার কথায়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা সেই বিশ্বাসকে দুর্বল করবে।
দিল্লি পুলিশের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে সংঘর্ষের ঘটনার অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা পুলিশকর্মীদের উপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ঘটনার ১০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ডিজিটাল ও ফরেন্সিক প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে যোগ দিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালীন অনশনে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
