একুশ বছর
এক শ বছর কত দীর্ঘ, তা বোঝার কোনো উপায় নেই যতক্ষণ না সে চোখের পলকে ভেঙে পড়ে — দুটো, তিনটে, পাঁচটা, দশটা, পনেরোটা। আর আজ ঠিক আমার পাশে বসে আছে সে। ভাতের
Table of Contents
এক শ বছরের দিকে তাকিয়ে: একুশ বছরের গল্প
Banglabeacon.com – এক শ বছর কত দীর্ঘ, তা বোঝার কোনো উপায় নেই যতক্ষণ না সে চোখের পলকে ভেঙে পড়ে — দুটো, তিনটে, পাঁচটা, দশটা, পনেরোটা। আর আজ ঠিক আমার পাশে বসে আছে সে। ভাতের থালায় চামচ একটু কম নামলেই মুখ লাল হয়ে যায়, আর প্রশ্নটা আসে:
“খোকনরে, মাত্র এতকটা ভাত। তাও আমারে তুই খাইতে দিবি না? আমারে কি না খাওইয়াই মারবি?”
সুচ, রক্ত, আর রাতের মিষ্টি
ডাক্তার মেটফরমিন দিয়েছে। প্রতিদিন ভোরবেলা আঙুলে সুচ ঢোকানো হয়, এক ফোঁটা রক্ত বের করে দেখা হয় সুগারের মাত্রা কত। সেই দৃশ্যে আমার গা শিউরে ওঠে — পাঁজু কুঁচকে যায়, গোড়া ব্যথা করে। সে কিন্তু পারে। সুন্দর করে সুচটা আঙুলে ফুটিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দেয়। টুক করে এক ফোঁটা রক্ত আসে। আমি তর্জনীর ডগায় সেই টিমটিম রক্ত দেখি; সে মেশিনের ছোট্ট মুখে ছেঁড়ে দেয়, আর একটা সংখ্যা উঠে আসে। সে সংখ্যাটা দেখে।
রাতে ঘুমিয়ে পড়লে সে টুকটুক করে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামে। মনে হয় টের পাই না — আসলে পাই। সুইচটা এমনভাবে নামায়, যেন বাতি জ্বাললেও শব্দ হবে না। তারপর রান্নাঘরে যায়। অন্য কিছু খায় না। সামান্য একটু মিষ্টি। কালে আবার আমি তাকে জিজ্ঞেস করি,
“সুগার এত বাড়ে কেন?”
সে আমার দিকে তাকায় না। দিকে এক লম্বা ট্রেন, হুংকার দিতে দিতে চলছে। হুংকারে মাটি কাঁপে কিনা জানি না। তবে আর কিছু কাঁপে না। কয়লা এখনও পোড়ে। তেল পোড়ে। কোটি কোটি বছর আগে মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া গাছপালা, জন্তুজানোয়ার, ডাইনোসরের শরীরের রক্তমাংস দিয়ে এখনও ইঞ্জিন চলে। এক শ বছরের হিসাব এখানেই ভেঙে পড়ে — ইঞ্জিনের ভেতর যে জ্বালানি জ্বলছে, তার উৎস কোটি কোটি বছর আগের।
ট্রেন, ভাঙা গাড়ি, আর শরীরের ইনভেন্টরি
ট্রেনটা চলে যায়। এইমাত্র একটা টাইরানোসরাস রেক্স আমার পাশ দিয়ে চলে গেছে, তার পেছনে ট্রাইসেরাটপস। আরও পেছনে ব্র্যাকিওসরাস। একটু সামনে বিএনকে অটো রিপেয়ার। তার পাশে একটা পুরোনো গাড়ি পড়ে আছে। আরভি। সাত বছর ধরে দেখছি ওখানেই পড়ে আছে। প্রথম যখন দেখেছিলাম, চারটা চাকাই ছিল। পরে একটা নেই। তারপর আরেকটা। একদিন দেখি বনেট খোলা — ইঞ্জিনের ভেতর থেকে কী যেন খুলে নিয়ে গেছে। এখন কাচও নেই। যে কয়টা যন্ত্রপাতি কাজে লাগবে, মানুষ খুলে নেবে। বাকিটা হয়তো কোনোদিন ভাঙা যাবে।
আমারও তো আছে দুটো চোখ। একটা হার্ট। দুটো কিডনি। লিভার। ফুসফুস। কত হাড়। কত শিরা। কত তার। একুশ বছর পর এগুলোর কোনটা থাকবে, কোনটা বদলাতে হবে — কে বলবে? এক শ বছর ধরে এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয়নি, আর দেবেও না।
রাস্তার মাথায় ল্যাম্পপোস্টটা এখনও জ্বলছে। দিনের আলো হয়ে গেছে, তবু জ্বলছে। বাতিটা টিমটিমে। নামটা বোধহয় সোডিয়াম নিট্রন। অনেক আগেই এসব বাতি বাতিল হয়ে গেছে। সাঁইত্রিশ দিন আগে মেম্বার জ্যাক খুব উচ্চৈঃস্বরে বলেছিল,
“আমাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। এখন আর সোডিয়াম নিট্রনের সময় নেই। সব এলইডি করতে হবে। ভাইয়েরা, আপনারা রাজি আছেন?”
সবাই একসঙ্গে বলেছিল,
“জি।”
সাঁইত্রিশ দিন হয়ে গেছে। মেম্বার সাহেব নিজের বাড়ির সামনের বাতিটা বদলেছেন কিনা জানি না। রাস্তারটা বদলায়নি। এক শ বছর পরও হয়তো এই টিমটিমে আলোই জ্বলবে, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া আর বাস্তবায়ন করা দুই ভিন্ন জিনিস।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এক শ বছর কত দিন? এক শ বছর মানে একশোটি সৌর-বছর, অর্থাৎ প্রায় ৩৬,৫২৫ দিন (লেপ ইয়ার সহ)। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় — যেমন জ্বালানির উৎস, শরীরের ক্ষয়-ক্ষতি — এই সময়সীমা প্রায় অসীম মনে হয়।
মেটফরমিনের সাথে সুগার মনিটরিং কেন জরুরি? মেটফরমিন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ব্যবহৃত ওষুধ। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তবে প্রতিদিন ভোরবেলা ফিংগার-প্রিক টেস্ট করে মাত্রা যাচাই করা আবশ্যক, কারণ ওষুধের প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।
সোডিয়াম নিট্রন ল্যাম্প এখনও ব্যবহার হয় কি? অনেক শহরে এলইডি বাতিতে রূপান্তর সম্পন্ন হয়েছে, তবু পুরোনো সোডিয়াম নিট্রন পোস্ট কিছু এলাকায় এখনও জ্বলতে থাকে। রূপান্তরের সময়
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is এক শ বছর?
এক শ বছর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does এক শ বছর matter?
এক শ বছর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.