সীতাকুণ্ডে প্রাণহানি ৯: জাহাজ ভাঙা বন্ধ, ইয়ার্ড পরিদর্শন
স ত ক ণ ড প র - চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার যে কারখানায় গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেই ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছে শিল্প
Table of Contents
Banglabeacon.com – স ত ক ণ ড প র – চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার যে কারখানায় গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেই ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কমিটির প্রধান এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী বলেন, ‘এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। আমরা এ ব্যাপারে সত্যটা উদঘাটনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যতগুলো ব্যাপার দেখার প্রয়োজন, সেটা দেখার চেষ্টা করছি।’ তদন্ত কমিটি শনিবার বিকেলে সার্কিট হাউজে দুই ঘণ্টা সভা করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোন কোন বিষয় দেখা দরকার তা নিয়ে সেখানে মতামত গ্রহণ করেছি। সে হিসেবে আজ (রোববার) সকাল থেকে কাজ শুরু করেছি।’ এর আগে শনিবার ভাটিয়ারীর জাহাজভাঙা কারখানা ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সব ধরনের কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএসবিআর’র সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান কারখানাটি পরিদর্শন করার পর কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি। নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে যাতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্যই আপাতত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সময়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবেন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ওই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরনো জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণের ঘটনায় ৯ প্রাণহানি ছাড়াও আহত হয়েছেন আরো ৭ জন। এ ঘটনা তদন্তে পরদিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে রোববার সকালে কমিটি সেখানে পরিদর্শনে যায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ওই শিপ ইয়ার্ডে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই জাহাজ কাটার কাজ চলছিল বলে শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে (জলাধার) বিপদজনক মাত্রায় গ্যাস জমে ছিল। সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, রোববার দুপুরে পরিদর্শন কার্যক্রম তুলে ধরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বেনজামিন রিয়াজী বলেন, ‘আমরা উদঘাটনের চেষ্টা করছি কী কারণে এটা হয়েছিল, কারো গাফিলতি ছিল কি না, এখানে সেফটি মেজারে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, আরো কী ডেভেলপ করা যায়? আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্ব দিচ্ছি, যে শিপটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আরো কোনো টক্সিক গ্যাস থেকে যেতে পারে। এটা যাতে নিরাপদ করে তোলা যায়, এই ব্যাপারে তৎপরতা আছে। আমরাও সহযোগিতা দিচ্ছি।’ এর আগে সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে কমিটির প্রধান বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার জন্য কাজ তেমন আগাতে পারছে না। যদি ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হয় বা এখানকার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে এটা করার চেষ্টা চলছে।’ পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে এই কমিটিকে শিল্প সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ কমিটিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় আছে কি না, থাকলে তাদের অবহেলা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) ছিল কি না, উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ও অদক্ষতা ছিল কি না, ইয়ার্ডে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ছিল কি না এসব বিষয়েও কমিটিকে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন শ্রমিকেরা। পরে একে একে ৯ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। উল্লেখ্য: গত ফেব্রুয়ারিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শনে ফেরদৌস স্টিলে নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছিল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করিয়েও ওভারটাইমের টাকা না দেওয়ার অভিযোগও ছিল। এসব অনিয়ম সংশোধনে একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করে অধিদপ্তর।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ত ক ণ ড প র?
স ত ক ণ ড প র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ত ক ণ ড প র matter?
স ত ক ণ ড প র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.