ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও ডিজিটাল সেবার বাস্তবতা
ভ ম ব যবস থ পন য় – ভূমি বোঝায় পৃথিবীর সম্পূর্ণ ভূতাত্তর স্থান কঠিন স্থলভাগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রকৃতির অকাতরে দান করা মাটি, জল, খনিজ ও বনজ সম্পদকে একত্র করে গঠিত। মানুষের বসবাস ও উৎপাদন কাজে এটি অপরিহার্য স্থান। আইনের ভাষায় ভূমি হলো আবাদি-অনাবাদি জমি, নদ-নদী, খাল-বিল, ঘরবাড়ি এবং মাটির সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত সব কিছুর সমন্বয়। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৯৫০ সালের ২(১৬) ধারা অনুযায়ী এটি আইনী পরিভাষায় সংজ্ঞায়িত।
প্রকৃতার্থে ভূমি হলো উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। মাটি ছাড়াও খনিজ, বনজ সম্পদ, জলাশয় ও জলবায়ু এই ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রকৃতির দান যেখানে জোগান সীমিত। স্থানান্তর করা যায় না এবং উর্বরাশক্তিও ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিবর্তিত হয়। আদি সাম্যবাদী সমাজে ভূমি মালিকানা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল না। সামাজিক ভাবে মানুষ এটি ব্যবহার করত এবং মালিকানা ছিল সমষ্টিগত। সময়ের প্রক্রমবিবর্তনে ভূমি এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ডিজিটাল সেবার সৃষ্টি মানুষের মাটির জন্য রাষ্ট্রকে কর দেয়ার প্রক্রিয়াকে সুসংগত করেছে। অনলাইনে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই ভূমি কর পরিশোধ করা যায় এমন সুযোগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সৃষ্ট হয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কতটা সঠিক পরিচালিত হচ্ছে তা আজকের বাস্তব সমস্যার সাথে নির্ভর করে।
ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু এই ব্যবস্থার বাস্তবতা কতটা সফল তা খুবই জটিল। মার্চ ২০২৬ তথ্য অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি কমিয়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য হলো ১০ শতাংশের নিচে। এতে বোঝা যায় ভূমি-সংক্রান্ত দুর্নীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।
ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করে সরকার দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। যেমন— ভূমি নিবন্ধন দপ্তর, ভূমি রাজস্ব আদায় দপ্তর ও ভূমি জরিপ দপ্তর প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সেবার বাস্তবতা কতটা সুফল আনে তা পরিষ্কার নয়। অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটার দোকানগুলো ভূমি সেবার কাজ করে যায় এবং তাদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।