চিনির ঝুঁকি: নীরব স্বাস্থ্য সংকট
চ ন র ঝ ক – চিনি মানব খাদ্যের অনুপাত হিসেবে সরাসরি শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়। বাংলাদেশে বহু কাল ধরে প্রাচীন খাদ্য আচরণে চিনি ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যেমন পিঠা, মিষ্টি, পায়েস এবং বিভিন্ন উৎসবে খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ব্যবহারে স্থানান্তর ঘটেছে। বিশ্বব্যাপী গত কয়েক দশকে চিনির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রক্রিয়াজাত, ক্যালোরি সমৃদ্ধ এবং পুষ্টিগুণ স্বল্প খাবারের ব্যবহার বেড়েছে যেখানে প্রাচীন রানী খাবার বিস্তৃত হয়েছে।
বাংলাদেশে একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরে ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস এবং অন্যান্য মিষ্টি খাবারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে এই ধরনের খাদ্য বিস্তার হচ্ছে। ফলে খাদ্য আচরণে পরিবর্তন ঘটেছে যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশের শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ছোটবেলা থেকে শিশুদের মিষ্টি খাবার প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে। সাধারণত সস্তা মিষ্টিজাত খাবার ও পানীয় বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় প্রবণতা আরও বাড়ছে। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে শিশুদের মধ্যে দাঁতের ক্ষয় একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে যা দাঁতের এনামেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বেশি ক্যালোরি কিন্তু পুষ্টি সমৃদ্ধ নয় খাবারের ফলে শিশুদের ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। এটি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। এই ক্যালোরি পেটের চারপাশে চর্বি হিসেবে জমা হয়। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশ করে যে, প্রতিদিনের মোট ক্যালোরির ১০% এর কম ফ্রি সুগার থেকে আসা উচিত এবং সম্ভব হলে তা ৫% এর নিচে রাখা উচিত। এটি প্রায় ২৫ গ্রাম বা ৬ চা চামচ চিনির সমান।
আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শত কোটি মানুষ ডায়াবেটিস এবং প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে এই সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। লাখ লাখ মানুষ অবিচ্�