News

বরেন্দ্রভূমির আদিবাসীদের পানি সংকট

বরেন্দ্রভূমির আদিবাসীদের পানি সংকট গুরুতর হচ্ছে বর ন দ রভ ম র আদ - বরেন্দ্রভূমি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে জীবনের প্রধান আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আজকাল এটি

Desk News
Published June 1, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

বরেন্দ্রভূমির আদিবাসীদের পানি সংকট গুরুতর হচ্ছে

বর ন দ রভ ম র আদ – বরেন্দ্রভূমি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে জীবনের প্রধান আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আজকাল এটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব অর্জন করেছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে আদিবাসীদের পানি সংকট ক্রমাগত গুরুতর হচ্ছে। এই অঞ্চলে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই এলাকার পানি সহজে পাওয়া যায় না। আগে পানি সংগ্রহ সম্পূর্ণ সমস্যা হত না, কিন্তু এখন পানির গভীরতা প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

পানি সংকটের উৎস কী?

১৯৯৪ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির গড় স্তর ছিল ৩৫ ফুট। দুই দশকের মধ্যে সেটি ৭০ ফুট পর্যন্ত নেমে আসে। কিছু এলাকায় পানির গভীরতা ২০০ ফুটের বেশি হয়েছে। এই অঞ্চলে মাটি লাল এঁটেল হওয়ায় এর পানি ধারণ ক্ষমতা দ্বিগুণ কমে গেছে। বৃষ্টি কমে গেছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর কমপক্ষে ১-২ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি একটি গুরুতর পরিবর্তন যে আদিবাসীদের জীবন বিপন্ন করছে।

খরা মৌসুমে পানি সংগ্রহের কাজ কোন উপায় ছাড়া সম্পূর্ণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শারীরিক ক্লান্তি ও পুষ্টিহীনতার সম্মুখীন হতে বাধ্য হয় এমন একটি পরিস্থিতি বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। গভীর নলকূপ বা খাড়ি থেকে পানি বের করে আনতে এবং নারীদের দূরের এলাকা পরিদর্শনে ব্যয় হয় ৪-৫ ঘণ্টা। এই সমস্যা তাদের পরিবারের জীবন গুরুতর করছে।

২০২২ সালের ২৩ মার্চ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে সেচের পানি না পেয়ে দুই সাঁওতাল ভাই—অভিনাথ মারান্ডি ও রবি মারান্ডি—গভীর নলকূপের সামনে বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; এটি বরেন্দ্র অঞ্চলে সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অনুপ্রাণিত প্রতিচ্ছবি। পানি সংকট শুধু জীবিকা নয়, ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও সামাজিক বন্ধন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে। আদিবাসী পরিবারগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা উচিত।

আদিবাসী কৃষকদের জীবিকা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত

খাদ্য ও পানি মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান জীবিকা ধান চাষ, যা অত্যন্ত পানিনির্ভর। কিন্তু পানি বণ্টনে সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান। বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিচালিত নলকূপগুলো বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে পড়ে। তারা জমি সেচের জন্য আদিবাসীদের সম্মুখীন হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে খালপথে পানি আনার প্রকল্প দ্রুত চালু করা উচিত।

পুকুর, খাস জলাশয় ও খাড়ি পুনঃখনন ও সংরক্ষণের কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম পানিনির্ভর ফসল চাষ করার প্রকল্প অবিলম্বে চালু করা জরুরি। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকট দূর করতে একটি নতুন সামাজিক বৈষম্য দৃষ্টি�

Leave a Comment