নিজের জমানো টাকা এখন ‘দুঃস্বপ্ন’ পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের
ন জ র জম ন ট ক – বাংলাদেশে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন পাঁচটি ব্যাংক কর্মসূচি পালন করছে অভিযোগ করে জমা টাকা ফেরত পেতে পারছে না। অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও ক্রমাগত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে আইনি কারণে আমানতকারীদের প্রতিক্রিয়া আসছে। এমন সংকট বাড়ছে ঈদ সামনে রেখে আমানতকারীরা ব্যাংকের শাখায় শাখায় ভিড় বাড়িয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার আশা নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
অসহায় হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ৫০ লাখ টাকা তুলতে পারছেন না আবু ইউসুফ। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার পথে আছে। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন পর্যন্ত দিতে পারেননি তিনি। এতদিন সন্তানদের কলেজ ফি দিতে পারছিলেন না। নিজের ও স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
‘আমার একাউন্টে টাকা থেকেও হাতে টাকা না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পথে। প্রতিদিন টাকা পাওয়ার আশায় ব্যাংকে ছুটে যাচ্ছি। সন্তানদের কলেজের ফি দিতে পারছি না। স্ত্রী ও আমি অসুস্থ, চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি,’ বলেন আবু ইউসুফ।
তোহিদুল ইসলামের দুঃখ মূলত বাবার চিকিৎসা
ঈদ সামনে রেখে কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার জন্য টাকা ফেরত পেতে পারছেন না তোহিদুল ইসলাম। তার ইউনিয়ন ব্যাংকে হিসাবে দুই কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন ব্যাংকে গিয়েও টাকা তুলতে পারছেন না। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে চিকিৎসা চলছে। কিন্তু তা আটকে গেছে।
‘ইউনিয়ন ব্যাংকে দুই কোটি টাকা জমা থাকলেও বাবার চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার বাবা কিডনি ও হার্ট জনিত রোগে অসুস্থ। টাকার জন্য ব্যাংকে গিয়েও পাইনি,’ বলেন তোহিদুল ইসলাম।
বোনের মৃত্যুর কষ্ট কাটতে পারছেন না মো. বানেজ উদ্দিন
সড়ক দুর্ঘটনায় বোন মারা গেছে। মো. বানেজ উদ্দিন ব্যাংকের শাখায় জমা থাকা আট লাখ টাকা তুলতে পারছেন না। শেষে মাত্র ১৯ হাজার টাকা পেয়েছেন। সেই সামান্য অর্থ নিয়ে ছুটতে হয়েছে বোনের লাশ দেখতে।
‘বেতন পাইনি। ব্যাংকের একাউন্টে আট লাখ টাকা জমা। সড়ক দুর্ঘটনায় বোন মারা গেছে। টাকার জন্য ব্যাংকে গিয়েও পাইনি। মাত্র ১৯ হাজার টাকা তুলতে পেরেছি,’ বলেন মো. বানেজ উদ্দিন।
আন্দোলন করেও ফেরত