অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রোগীর মৃত্যু, চালক গ্রেপ্তার
অ য ম ব ল ন স – শৈলকুপা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে এক মুমূর্ষু রোগী মৃত্যু বেড়ায়। ঘটনার পর হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল মিয়া গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে আটক করা হয়।
হাসপাতালে রোগীর স্বাক্ষরিত তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকালে বারইপাড়া গ্রামে আবু জাফর কুসুম (৬৫) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেফার করেন। সেই সময় রোগীর পরিবার হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চাইলে চালক বকুল মিয়া জ্বালানি তেল নেই বলে অস্বীকৃতি জানান। নিজেদের খরচে তেল কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও চালক যেতে রাজি হননি।
বিষয়টি নিয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, হাসপাতালের আরএমও ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর পুলিশ চালককে থানায় নিয়ে যায়। মৃত রোগীর স্বজন উল্লাস হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা তেলের টাকা দিতে চেয়েছি, চালককে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি। পরে বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে দেরি হওয়ায় আমার কাকা হাসপাতালেই ছটফট করতে করতে মারা গেছেন।’
শৈলকুপা থানার পরিদর্শক শাকিল আহমেদ জানান, হাসপাতালের আরএমওর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চালক বকুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। কিছু দিন ধরে চালক বকুল হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের অনুমতি ও দাপ্তরিক রেজিস্ট্রারে সই করার কথা থাকলেও বকুল মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় তা মানতেন না। বরং অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যক্তিগত ভাড়ায় ব্যবহার করেন।
অতঃপর এক বহিরাগত যুবকের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়ে