অরণ্যে বাস-নেকড়ের ত্রাস…
কবিতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যায়ন
অরণ য ব স ন কড় র – কথাশিল্পী শওকত ওসমান তাঁর মৃত্যুর প্রায় আট মাস আগে লিখেছিলেন— “অরণ্যে বাস/ নেকড়ের ত্রাস/ কুয়ার জলে শুধু/ হেরি আকাশ|” তারিখ: ২৭/০৭/১৯৯৭|
তাঁর মনে হচ্ছে যেন তিনি অরণ্যে বাস করছেন, যেখানে জন্তু জানোয়াররা সমাজপতির দায়িত্ব পালন করে। অথচ ২৫.০৯.১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তানি আমলে লিখেছিলেন একটি অপ্রকাশিত কবিতা— “…তবে সান্ত্বনা বহু দিন পরে/ এবার হাঁফ ছাড়া যাক প্রাণ ভরে/ আমাদের বলবে জানোয়ার/ এমন থাকল না কেউ আর|”
আজকাল সমাজে বনের পশুকে জানোয়ার বলা প্রকৃত কোনো প্রণয় বা কোনো প্রবন্ধ নেই। কারণ সকলেই জন্তু-জানোয়ার সমান। কথাশিল্পী শওকত ওসমান বলছেন, তাঁর স্বাধীনতা অর্জনে নিজ হাতে গড়া দেশটি অরণ্যে পরিণত হয়েছে।
বিপুল বিব্রত এবং বিদ্রোহী সত্য
বিখ্যাত সাহিত্যিক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর লিখেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন শওকত ওসমানকে জাতীয় অধ্যাপক করার জন্য। সেই নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে কারণ ছিলো ঠুঁটে শওকত ওসমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগে বাকশালে সই করেননি, তিনি বাকশালে যোগ দেননি। শওকত ভাই হয়তো জানতেন এমন হবে।
শেক্সপীয়র-প্রেমিক শওকত ভাই ৬ই জানুয়ারি ১৯৭৭ ম্যাকবেথের উক্তি উচ্চারণ করেছিলেন, “হে স্বদেশ ভূমি তোমাকে মা ডাকতে ভয় হয়/ বলতে ইচ্ছে করে তুমি আমাদের গোরস্থান|”
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর আরও লিখেছিলেন, “শওকত ভাই চিরকালই বিদ্রোহীদের পক্ষে ছিলেন। সেই অবস্থান থেকে কখনও সরে আসেননি।”
প্রাণ বিনিময়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ
এবার নিজ স্বাধীন দেশকে তুলনা করছেন অরণ্যে। অরণ্যে বাসের কথা জনজীবনের ভাষা দিয়ে লেখা হয়েছে, যে কথাশিল্পীরা স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছেন এমন প্রতিবাদী কণ্ঠ সৃষ্টি করছেন না। তাঁদের উৎসর্গিত প্রাণের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তা কি কেবল অরণ্য সৃষ্টির জন্য।
আজ তাঁর