নতুন সংস্কৃতির বিকাশে ‘সংবাদ’
নত ন স স ক ত র – আমার সংবাদ-এর সাথে একটি দৃঢ় সম্পর্ক আছে; আমরা একই বয়সে পরিচিত, এবং আমার লেখনীর প্রথম দিন থেকে এ কাগজ আমার সহায়তা করেছে। প্রতি সকালে প্রথম সাজে কাগজটি যে হাতে চোখ রাখি, সে কাগজ হচ্ছে ‘সংবাদ’। কিছু সময়ে আমি অফিসে তাঁদের সাথে দেখা করতাম। সাহিত্য পাতায় তিনি নিয়মিত কলাম লিখেছিলেন যার নাম ছিল ‘অলস দিনের হাওয়া’। আমার হাতে তাঁর কিছু লেখা পৌঁছে দিতেন ফোনে খবর নিয়ে।
সংবাদ-এর সম্পাদকীয় বিষয়গুলি ঘুরে ফিরে আসে কিছু মূল্যবান প্রতিশ্রুতির মধ্যে— দেশের ভূমি, সংস্কৃতি, মানুষ এবং রাজনীতি নিয়ে আমাদের ধারণা বদলে যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অগাধ বিশ্বাস, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি চিন্তা, প্রান্তিক মানুষজনের প্রতি স্থায়ী সমর্থন এবং নারী ও গোষ্ঠীগুলির উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা তাঁদের নিয়মিত পাতায় ঘটে।
সেমিনারে বিশ্বাসের অগ্রযাতি
প্রায় তিরিশ বছর আগে বাংলা একাডেমিতে একটি সেমিনার হয়েছিল, যেখানে আলোচনা ছিল একুশ শতকের সাহিত্য ভাবনা নিয়ে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী, যাঁদের নিয়ে আলোচনা হয়েছিল সাহিত্যের উদয় নিয়ে। মহাশ্বেতা দেবী সেই বিষয়টি বিশেষ আগ্রহ নিয়ে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, যদিও তিনি ভবিষ্যৎ-দর্শনের প্রতি সাবধান ছিলেন।
“দু’-তিন বছরে সাহিত্যে এমন কী পালাবদল ঘটবে যে, মানুষকে মুখিয়ে থাকতে হবে একুশ শতকের জন্য,” মহাশ্বেতা দেবী বলেছিলেন।
আমার মনে আছে, সত্তরের দশকের শেষ দিকে বিশ্লেষণ বক্তৃতা শুনার সুযোগ হয়েছিল পল ডি ম্যান ও স্ট্যানলি ফিশের কাছ থেকে। সাহিত্যতত্ত্বে কাঠামোবাদী চিন্তা সরিয়ে বিনির্মাণবাদী ধারণা আসে যে সময় তাঁদের সাহিত্য-সমালোচনা শিখেছিলাম না। এসব বিষয়ে আমার প্রতিশ্রুতি আছে কিছু নিউ ক্রিটিসিজম প্রভাবিত।
আমার মনে আছে যে, এত বছর পরও ‘সংবাদ’ তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। এ কাগজে গাছপাথর নামে রাজনৈতিক কলাম লিখেছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, যার লেখনী আমাদের পাঠকদের সুবিধে করেছে।