খাদ্য প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস গ্রহণ
ক ষক র হ ত র ন – বাংলাদেশের প্রান্তিক চাষিদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ চালিত ক্ষুদ্র হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, জেলা পর্যায়ে বড় হিমাগার নির্মাণ করলে তা কৃষকের খেত থেকে ২৫-৩০ মাইল দূরে পড়ে। এতে পরিবহন খরচ ও ঝক্কি-ঝামেলার কারণে ছোট কৃষকদের উপকার হয় না। যাতায়াতের সমস্যা দূর হলে ক্ষুদ্র কৃষকদের আরো উপকার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষি খাত গঠনে প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে
বীজে দেশের পচনশীল কৃষিপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অপচয় রোধ করতে ২ হাজার ছোট হিমাগার স্থাপন করা হবে। প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎ চালিত এই হিমাগারগুলো কৃষকের ঘরের কাছে বা মাঠের পাশে অবস্থিত হবে। কৃষি বাজেটের সিংহভাগ সারের ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে যা অবিচ্ছিন্ন সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই ক্ষুদ্র হিমাগারগুলো পরিচালনার জন্য ১৫ থেকে ২০ জন কৃষকের সমন্বয়ে একটি করে সমবায়ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এগুলো চালু রাখতে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচের চাপ থাকবে না।
মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা সমাধানে কৃষকের দোরগোড়ায় হিমাগার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যাতায়াত খরচ কমে যাবার সাথে সাথে ফসল অপচয় শূন্যে নেমে আসবে। মূলত কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচের চাপ থাকবে না।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী হোটেলে এক সভা আয়োজন করা হয়। সভায় মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কৃষি বাজেটের সিংহভাগ (প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার) সারের ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি মূলত চাল বা একটি ফসলের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে মন্ত্রী।
ফলে গবেষণা ও সেচ অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো অর্থায়নের অভাবে ভুগছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং এবং বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারা উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের পর থেকে কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে।
অনুষ্ঠান