Bangladesh

স্বাক্ষরের ‘ভুলে’ ভেঙে গেল বেরোবিতে ভর্তির স্বপ্ন

স ব ক ষর র ভ ল - রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অপেক্ষমাণ তালিকার শীর্ষে থাকার পরও ভুল স্বাক্ষরের কারণে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছেন ইনসানা আখতার।

Desk Bangladesh
Published July 30, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : John Brown - banglabeacon.com

স্বাক্ষরের ভুলে বেরোবিতে ভর্তির সুযোগ হারালেন শিক্ষার্থী

Banglabeacon.com – স ব ক ষর র ভ ল – রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অপেক্ষমাণ তালিকার শীর্ষে থাকার পরও ভুল স্বাক্ষরের কারণে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছেন ইনসানা আখতার। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের শূন্য আসনের গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

ভুল স্বাক্ষরের কারণে অনুপস্থিত ঘোষিত

ইনসানা আখতার বাণিজ্য (বি) ইউনিটের অধীনে একই সঙ্গে দুটি বিভাগে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত হন। তবে উপস্থিতি শিটে তিনি একটি বিভাগের তালিকায় মাত্র একবার স্বাক্ষর করেন। পরে অন্য বিভাগের তালিকায় স্বাক্ষর না থাকায় তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়।

বেরোবি সূত্রমতে, গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত শূন্য আসনের সাক্ষাৎকার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট আটটি শূন্য আসনের বিপরীতে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ব্যবস্থাপনা বিভাগে দুটি আসনের বিপরীতে ১০ জন এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজনকে ডাকা হয়। ‘বি’ ইউনিটে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজন এবং ‘সি’ ইউনিটে একই বিভাগের তিনটি আসনের বিপরীতে ১৫ জনকে ডাকা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত করা হয়।

ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে আমাদের একটি উপস্থিতি শিট দেওয়া হয়। সেখানে সবাই স্বাক্ষর করেন। কিন্তু যাদের একাধিক বিভাগে নাম এসেছে, তাদের আলাদা আলাদা উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই আমি শুধু একটি শিটেই স্বাক্ষর করি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইনসানা আখতার বলেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক ছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে একটি আসনের বিপরীতে তার মেধাক্রম ছিল পঞ্চম। অন্যদিকে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তিনটি শূন্য আসনের বিপরীতে তিনি অপেক্ষমাণ তালিকার প্রথম ছিলেন। প্রথম যে তালিকাটি সামনে পেয়েছেন, সেখানেই স্বাক্ষর করেছেন। পরে দেখেন তাকে কোনো বিভাগ দেওয়া হয়নি।

ইনসানা আখতার আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, আলাদা আলাদা শিটে স্বাক্ষর করতে হবে, সেটি তো আগে বলা হয়নি। তার বাসা রংপুর হওয়ায় তিনি গুচ্ছভুক্ত অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম (চয়েস) দেননি। বেরোবিতে ভর্তির আশায় অন্য কোনো গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম না দেওয়ায় বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী আর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে ভর্তির সুযোগ হারিয়ে তিনি চরম হতাশায় ভুগছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতামত

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে কিছু আসন শূন্য থেকে যায়। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রশাসন চাইলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারতো।

প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা উপস্থিতি তালিকা ছিল এবং সেভাবেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি সংশ্লিষ্ট তালিকায় স্বাক্ষর করেননি, তাই তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভর্তি কমিটির সদস্য ও জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে ডিনরা ভালো বলতে পারবেন। কারণ ভর্তি কার্যক্রমে তারাই দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগে আসনও খালি থাকতে হবে। ওই শিক্ষার্থী লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি ডিন ও উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Leave a Comment