ফেরারি পথ: বিচিত্র সাক্ষাৎ কর্ম ও ভাবনা ভাঙ্গা পথ
ফ র র পথ – ফেরারি পথে আমি একটি স্থানে দাঁড়িয়ে আছি। শ্রাবণ মাসে দূরে থেকে কাক ডাকছে, এই কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে স্থানটি আমাকে জানাচ্ছে যে সে কী করছে। বাস স্টপে পাশাপাশি দাঁড়ানো এক ভিখারিনী কয়েক মিনিট ধরে ফেরারি পথ নামে টিউশন দিচ্ছে। সে কয়েকটি টুকটাক টাকা পাচ্ছে। সাইড ব্যাগে তিনটি নোট রয়েছে—একটি পাঁচশ টাকার, একটি দুশ টাকার, একটি একশ টাকার। কিছু সময় পর আমি একটি একশ টাকা বের করে তুলি। বাড়িয়ে দিতেই ফিক করে হেসে বললো, “অ পাগলি খুচরো দাও!”
ফেরারি পথ বাস্তবতা আর মনের কাছাকাছি দৃশ্য
এটি রেখে দাও বলে উঠলাম। সে টাকাটা নিয়ে চলে গেলো স্বাচ্ছন্দ্যে। রোদ, হর্ন, ধুলো আর লোকজন সব ছাপিয়ে ফেরারি পথ বাস্তবতার দৃষ্টি পড়লো। আশ্চর্য! ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছে। পাশ থেকে একদম যেন রিয়াদের মতো দেখা যাচ্ছে। হুবহু শ্যামলা ও লম্বা গড়নের মুখ আর সেই শান্ত চোয়াল। একটু গম্ভীর ও গভীর চোখ, তরতরে নাক। আগে রিয়াদ প্রায় পরত কালো শার্টে। কালো পরতে ভালোবাসে সে।
নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না। আরও একটু এগিয়ে গেলাম। ছেলেটার সামনাসামনি যেতেই আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। এ কী! হুবহু মিল! হ্যাঁ এইতো… এইই তো রিয়াদ! কথা বলতে যাবার সময় কোনো অদৃশ্য শক্তি আমায় থামিয়ে দিলো। পা আড়ষ্ট হয়ে থমকে গেলাম। আমার দুটি চোখ থমকে আছে সেদিকে। আর রিয়াদকে দেখেও এড়িয়ে যেতে পারলাম না। চকিতে পা বাড়ালাম সেদিকে। একটা নিঝুম দুপুরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শান্ত ছেলেটার দিকে। অথচ আমি শান্ত নই! পথটা যে আজ শান্ত নয়! ভীষণ অশান্ত। তবুও অসাড় পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
ফেরারি পথ ও রিয়াদের পরিচয়
এগিয়ে চলেছি। বাসের দিকে নয়। উল্টো দিকে। হাতের ডানদিকটায় এগিয়ে যাচ্ছি। আচ্ছা! কেমন আছে রিয়াদ? একবার নাহয় ভুল করেই সামনে গেলাম ওর। ডেকে উঠলাম, “রিয়াদ!” ভদ্রমহিলা আলতো চোখে তাকালেন আমার দিকে। আমি আরো এগিয়ে যেতে লাগলাম। ঠিক উনার পাশেই। “কে তুমি মা? ওকে চেনো?” “আমি মালিনী। আমরা একসাথে কলেজে পড