ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ
Banglabeacon.com – দ শ ৩০ ল খ টন ই – রাজধানীর ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আয়োজিত জাতীয় জনসংলাপে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়। ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস, অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহায়তায় নিয়ে।
প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বাকি ৯০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে ৪৬ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি
জনসংলাপে উপস্থাপিত ভয়েসের ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’-এর বাস্তবায়ন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালা থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। নিরাপদ সংগ্রহ, পরিবহন, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবেশসম্মত নিষ্পত্তি এবং উৎপাদকের বর্ধিত দায়বদ্ধতা (ইপিআর) বাস্তবায়নে অগ্রগতি সীমিত।
ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা মূল প্রবন্ধে দেশের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি তুলে ধরেন। তিনি ইপিআর বাস্তবায়ন, নিবন্ধিত রিসাইক্লিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা এবং কার্যকর তদারকি জোরদারের সুপারিশ করেন।
বক্তারা কী বললেন
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ই-বর্জ্যের পরিমাণও দ্রুত বাড়বে। তাই নিরাপদ পুনর্ব্যবহার, গবেষণা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং সরকার, শিল্প ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন, শুধু নীতিমালা বা সচেতনতামূলক কর্মসূচি দিয়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার সমাধান হবে না। এ জন্য প্রয়োজন কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা।
ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এ জন্য দেশব্যাপী জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রচারণা ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
জনসংলাপে নাগরিক উদ্যোগ, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিভিন্ন রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, কার্যকর মনিটরিং, সমন্বিত জাতীয় নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদার করা গেলে ই-বর্জ্য পরিবেশের জন্য হুমকি না হয়ে অর্থনীতির জন্য একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে।
