চাষের মাছ মরছে, অ্যান্টিবায়োটিকের ঝুঁকি বাড়ছে
চ ষ র ম ছ মরছ অ – বাংলাদেশে মিঠা পানির মাছগুলো বিভিন্ন রোগের শিকার হচ্ছে। এতে বিশেষজ্ঞদের মতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করা হয় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজিত এক ওয়ার্কশপে। এ ওয়ার্কশপ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
মাছের রোগ হার বৃদ্ধির কারণ
বিএফআরআই তথ্য অনুযায়ী প্রভাবিত খামারে প্রজাতি ভিত্তিক রোগের প্রকৃত হার বেশ উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় খামারি কয়েকটি মাছের জন্য বর্তমানে স্বাস্থ্য বৃদ্ধির পরিস্থিতি রয়েছে। শিং ও মাগুর জন্য ৬১ শতাংশ, গুলশা ও পাবদা জন্য ৪২ শতাংশ, তেলাপিয়া জন্য ৩৮ শতাংশ, পাঙ্গাস জন্য ৩৬ শতাংশ এবং কার্প জন্য ১৮ শতাংশ মাছের মৃত্যু হচ্ছে।
মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রকল্পে তৈরি করা হয়েছে আণবিক পদ্ধতির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের উৎস ও বৈশিষ্ট্য খুঁজে বার করার উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞরা আরও অনুরোধ করেছেন এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পরিবেশ বাড়ছে এবং মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকি কমানোর জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
আর্থিক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাছের রোগের কারণে মৎস্য চাষিদের আয়ের প্রায় ১৪.০৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্ব অ্যাকুয়াকালচারে প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার দেখা দিয়েছে গুণগত পানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছাড়া।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, পানির গুণগত মান মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। যদি পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারা যায়, তবে রোগ কমানো সম্ভব। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন দেশের প্রাকৃতিক মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাছের উপর রোগের আক্রমণ বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্সের হার বাড়ছে এবং এটি মাছ ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যু হতে পারে।