Bangladesh

ফাঁসির মঞ্চ থেকে ঐতিহ্যের কানন: ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’

ফাঁসির মঞ্চ থেকে ঐতিহ্যের কানন: ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’ ফ স র মঞ চ থ ক - ঢাকার সদরঘাট এলাকায় এক জীর্ণ কিন্তু গর্বিত স্থান রয়েছে, যার চারপাশে সাতটি রাস্তা মিলিত

Desk Bangladesh
Published July 14, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ফাঁসির মঞ্চ থেকে ঐতিহ্যের কানন: ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’

ফ স র মঞ চ থ ক – ঢাকার সদরঘাট এলাকায় এক জীর্ণ কিন্তু গর্বিত স্থান রয়েছে, যার চারপাশে সাতটি রাস্তা মিলিত হয়েছে। যানবাহনের শব্দ আর পুরনো শহরের চিরচেনা জনপ্রিয় গীত এখানে ছুটিয়ে পড়ে। এই মঞ্চে সব সময় তারা স্মারক বহন করে অকুতোভয় সিপাহীদের সাহসী যুদ্ধের কথা।

প্রাচীন দিনে এই জায়গা ছিল আর্মেনীয় বাসিনদের সম্পত্তি। তখন ওখানে বিলিয়ার্ড ক্লাব হিসেবে পরিচিত ছিল সেই আন্টাঘর ময়দান। ঢাকার নবাব খাজা আব্দুল গণি আর খাজা আহসান উল্লাহের সম্পূর্ণ সমর্থনে ইংরেজ সাহেব এখানে বিকেলে একত্রিত হতেন এবং টেনিস আর ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু হত। কিন্তু ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এই জায়গা বিপ্লবী শহীদদের প্রাণহীন দেহগুলো রাখা বৃদ্ধি করে। কোন বিচার ছাড়াই সেই ময়দানে প্রাচীন গাছের ডালে ফাঁসি দেওয়া হয় ১১ জন বীর সিপাহীকে।

রানি ভিক্টোরিয়া যখন ১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার নেন, তখন ওই ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এ উপলক্ষে এই জায়গার নাম বদলে রাখা হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’। এই পার্কে নির্মিত চারটি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে আছে সিপাহী বিদ্রোহের অনন্য স্মৃতিসৌধ। ইংরেজদের অত্যাচার আর সিপাহীদের রক্ত এখনও ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে।

যখন ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে গেল বাঙালি মানুষের ভেতর, তখন এই পার্ক শেকল ভাঙার গানের সম্মুখে উঠেছিল সেই কঠিন যুদ্ধের অবিশ্বাস্য স্মৃতি। আজ ওই স্থানটি আধুনিক ঢাকার মানুষের সকাল-বিকেল জনতার মাঝে গৌরবের এক স্থায়ী উৎস। চারপাশে স্কুল, কলেজ আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে তাদের আড্ডা স্থান বেছে নেয় আপন স্মৃতির জন্য।

ওবেলিস্ক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকার নবাব পরিবারের অকাল মৃত্যুতে মানুষের একটি স্মারক। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরের নামে এই পার্কটির নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তিনি সিপাহী বিদ্রোহীদের জন্য স্বাধীন ভারতের শাসন ঘোষণা কর

Leave a Comment