মাইক্রোসফটের ঐতিহাসিক বাজারমূল্য বৃদ্ধি: একদিনে ৪৫০ বিলিয়ন ডলার যোগ
Banglabeacon.com – একদ ন ই ৪৫০ ব ল য়ন – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির ফলে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট পুঁজিবাজারে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজারমূল্য বৃদ্ধির ইতিহাস লিখেছে এই গ্লোবাল টেক জায়ান্ট। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন সমাপ্তির পর শেয়ারদর একলাফে ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। ঠিক একদিনের ব্যবধানেই কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার।
বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর আগে এত অল্প সময়ে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের এত বড় মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি। এটি পূর্বের সব রেকর্ড চূর্ণ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ৯ এপ্রিল চিপ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া একদিনে ৪৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্য বাড়িয়ে যে রেকর্ড গড়েছিল, এবার তা টপকে গেল মাইক্রোসফট।
বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে নতুন উচ্চতা
সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল এবং আগামী দিনের ব্যবসায়িক আভাস বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবার অভূতপূর্ব সাফল্য এই সুবাতাস নিয়ে এসেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ বাজার কৌশলবিদ ব্রায়ান মুলবেরি মন্তব্য করেন, “মাইক্রোসফট অত্যন্ত চমৎকার একটি প্রান্তিক পার করেছে। বাজার ঠিক যে বার্তাটি শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফলাফলে ঠিক সেটিই পেশ করেছে। এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেছে তাদের ক্লাউড ও এআই বিভাগ।”
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ডেটা সেন্টার ও প্রসেসিং অবকাঠামোতে বিশাল অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কেটে যেতে শুরু করেছে। এতদিন ধরে টেক জায়ান্টদের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ তালিকার পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বুধবার পর্যন্ত ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এক প্রান্তিকেই দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার অন্তত ৯টি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস শেয়ারটির কাঙ্ক্ষিত দর বাড়িয়ে গিয়ে ৫৬০ দশমিক ৯০ ডলারে উন্নীত করেছে।
ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা অটুট
বিশাল আকারের ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৭ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকে ৫ হাজার কোটি ডলার এবং ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) করার পরিকল্পনা যথারীতি বহাল থাকছে। ডিফেকশন ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান জেক বেহান বিষয়টি নিয়ে বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নটি ছিল, মাইক্রোসফট এআই খাতে বিপুল খরচের আলোচনা থেকে সরে এসে সেই বিনিয়োগ থেকে বাস্তবে কেমন আয় আনছে তা দৃশ্যমান করতে পারবে কি না। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সে জায়গায় তারা অবিশ্বাস্য অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে।”
