কুপিয়ে জখম হন শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক আটক
শ ক ষ কর মকর ত ক – গোসাইরহাট উপজেলার আলাউলপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম জসিম রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রেইনকোট, মুখে মাস্ক এবং চোখে সানগ্লাস পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে। হামলার পর অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্বারা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ এবং প্রধান শিক্ষক বি এম জসিমের মধ্যে বিবাদ প্রায় দুই মাসের মতো চলছিল। শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল, যার কারণে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
টানা পরিস্থিতি এবং শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
বি এম জসিম এর বিরুদ্ধে শিক্ষা কর্মকর্তার দ্বারা বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো নিয়ে প্রথমে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জানান, অনিয়ম ছাড়া ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে তার বিরুদ্ধে আরও সাধারণ তদন্ত করা হবে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেয়নি, ফলে ঘটনা ঘটে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার জন্য এই বিষয়টি বিশেষ করে নিষ্পক্ষ তদন্তের দাবি ছিল।
এই হামলার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাকিল আহমেদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তার পর তিনি গোসাইরহাট থানায় হাজির হন। শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশী কর্মকর্তারা পরিকল্পিত ভাবে তদন্ত শুরু করেন। কিন্তু যে পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা চলছে তার বিষয়ে কোন আভাস ছিল না। অভিযুক্ত শিক্ষক এখন গোসাইরহাট থানায় হিসাবে জেলা আটক করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার তারতম্য
গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন না। তিনি জানান, শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেয়ার আগে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফলে তিনি বিপদের সম্মুখিন হন। অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তারা কুড়াল দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করে রাখেন।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক বি এম জসিম অবশ্য তার পরিচিতি দিয়েছেন। তিনি নিজেকে আত্মগোপন করে জানান যে হামলার কারণ ছিল তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তার অনিয়মের জন্য। এই বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে এবং শিক্ষা কর্মকর্তার দ্বারা কোন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি প্রায় সামান্য বিপাকে পরিণত হয়।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বিবাদ ছিল বিশেষ করে সংস্থান সম্পর্কিত অনিয়মের বিষয়ে।