৭৬ বছরের আলোকযাত্রা ও আমার ‘সংবাদ’স্মৃতি
৭৬ বছর র আল কয ত র – সময় থামে না, তার স্রোত বাধা দেয় না। কিছু নাম প্রবাহে হারিয়ে ইতিহাসের অন্তর্গত ধারণাকে বুকে ধারণ করে। এই নিয়ে আমার স্মৃতি এক প্রতিভাত চোখে জড়িয়ে আছে— কোনো সংবাদ পত্রিকার মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের উজ্জ্বল একটি অংশ সংবাদ হিসেবে স্থান পেয়েছে।
বিশ্বাস ও সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রথম জোর পাওয়া
শৈশবে আমার বাসা এক যোগাযোগবিহীন গ্রামে ছিল। সেখানে চড়ুই শালিকের কিচির-মিচির আক্রান্ত ভোর, ঘুঘু ডাকের অলস দুপুর, গাভীর হাম্বা প্রতিটি ক্ষণ ছিল সাধারণ জীবনের অনুভূতি। কিন্তু সরকারি ডাক পৌঁছাতে পৌঁছাতে এক সংবাদপত্রের দেখা মেলা ছিল সাপের পা দেখার মত অসাধারণ। সেই পত্রিকার নাম ছিল ‘সংবাদ’।
সেই সময়ে স্থানীয় লোকজন এই পত্রিকাকে সম্বাদপত্র বলতেন। আমাদের এলাকায় কোনো সাংবাদিক ছিল বলে কখনও শুনিনি। কলেজে পড়ার সময় আমার জীবনে সংবাদের সাথে পরিচয় ঘটে। টাউনহলের লাইব্রেরিতে বিস্তর পত্রিকার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাই। সেখানে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল দৈনিক সংবাদ।
সংবাদের বিশেষ অবদান
কলেজে পড়ার সময় আমাদের হলের ফ্লোরে একটি বিসিএস কর্নার স্থাপন করি। কারণ রিডিং রুমে পত্রিকার পাতাগুলো ব্লেডের মত কেটে নিয়ে যাওয়া হত। তাই বাছার মাধ্যমে আমাদের পাঠকের আবেগ ধরা পড়ে। প্রায় আশির দশকে সংবাদ তরুণদের সামনে নিশ্চিন্ত ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সংবাদ জনপ্রিয় হয়েছিল ছাত্রদের কাছে যে তরুণ পাঠকের জন্য নাড়ির সংযোগে সব আন্দোলনের বীরত্ব জুড়ে দেয়।
১৯৫১ সালে ভাষা আনন্দোলনে সারা বাংলা অগ্নিগর্ভ হয়েছিল। সেই সময়ে সংবাদের জন্ম। আন্দোলনের সাথে সংবাদের নিবিড় যোগসূত্র ছিল। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় প্রতিটি সংগ্রামে সংবাদ সাহসী ভূমিকা রেখেছে এবং ইতিহাসে জাতিকে আলোকিত করেছে।
আমার জীবনে একটি বিশেষ গর্ব জন্মগ্রহণ করেছে। সংবাদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে আমার “এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। মোট চৌদ্দ কিস্তির মধ্যে বইটি প্রকাশিত হয়। সেই বইটি আমার প্রথম প্রকাশ হিসেবে দৈনিক সংবাদে স্থান পায়।
এখন সংবাদে আমার লেখা প্রকা�