ধোঁয়ার কুণ্ডলী কিংবা প্রত্যাবর্তনের গল্প
সহপাঠী ও বন্ধুত্ব
ধ য় র ক ণ ডল ক – নিউ ফাউন্ডল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকোলাস মাস্টার্স আমার সঙ্গে পিএইচডি কোর্সে একত্রে থাকছে। ও শ্বেতাঙ্গ ও সুন্দর বয়সে আমার চেয়ে প্রায় ৬-৭ বছর ছোট। বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও আমি দর্শনশাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে এখানে আসিছি বাংলাদেশ থেকে। কয়েক মাস হলো আমাদের বন্ধুত্ব গঠনে সফল হয়েছে।
তিন গার্লফ্রেন্ডের বিষয়ে ধারণা
খেয়াল করেছি নিকোলাসের তিনজন স্ত্রী আছে। কিছুক্ষণ সে তাদের সঙ্গে একত্রে রাত কাটাচ্ছে। অনেক সহজে তারা একত্রে থাকে, কেউ কাউকে বলে না। আমার মনে হয় এটা একটি অনুচিত কৌতূহল বা ব্যক্তিগত বিষয়ের কথা। কিন্তু ওর সেই উপভোগের জন্য যে কৌতূহল আছে তা এখন সম্পূর্ণ জানা আছে।
“মাস্টার্সের পর তুমি কী করবে?” ক্যাফেতে বসে কথার ফাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। ওর হালকা নীল চোখে ভঙ্গিতে বলে, “আমি আমার এলাকায় ফিরে যাব, ক্যাটালিনা শহরে।” “কী কাজ করতে চাও সেখানে?” আমি জিজ্ঞাসা করি। নিকোলাস উত্তর দেয়, “ঠিক জানি না, তবে একটি চাকরি আমার পছন্দের আছে।”
ভিন্নতা ও স্বাধীনতা
নিকোলাসের কথায় আমার মনে হয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কোনো মানুষের পক্ষে এই ধরনের ভাবনা আজও অসম্ভব। কানাডায় দেখছি কোনো কাজই ছোট নয়। আমরা নীতিকথায় খুব ওস্তাদ, কিন্তু এরা কেবল মুখের কথায় নয়— বাস্তবে সকল মানুষকে মানুষ বলে মর্যাদা দেয়। পদবী আর ক্ষমতা সর্বত্র মূল বিবেচ্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ও চিন্তা
মনে পড়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী জাকারিয়ার কথা। বিজ্ঞান শাখায় পাস করে আমি ইচ্ছে করেই মানবিক বিষয়ে অনার্স করতে চেয়েছিলাম। বাবার মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়ে গেলাম। প্রথম তিন দিন ক্লাসে গিয়ে মাথার ভেতর কেমন করতে থাকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা টাইম-স্পেস সম্পর্কে আলোচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বেশিরভাগ নাকি নাস্তিক হয়ে যায়। আর আল্লাহ নাস্তিকদের পছন্দ করেন না, তাই পরলোকে তাদের জন্য নির্ধারিত আছে জাহান্নামের আগুন।
তরুণ মনে ভয় লাগে
মধ্য ডিসেম্বর শীতের সকালে চতুর্থ দিন ক্লাসে গিয়ে দেখি নতুন একটি ছেলে বসে আছে। ঘরটা প্রায় ফাঁকাই। ওর মুখে দাড়ি, রুচিশীল পাঞ্জাবি-পাজামা পরে আছে। মাথায় টুপি ও পাগড়ি দাড়িয়েছে। গা থেকে আতরের মৃদু গন্ধ আসছে।