একটা মলিন ২০ টাকার নোট
একট মল ন ২০ ট ক র – সকালে ঘুম ভাঙার পর খাইরুলের মনে ছিলো একটা ছোট লাথি মারা দরকার। রাত দুইটার ঘুম থেকে তার এই সেই অবস্থা— অনুভূতি ছিলো ঘাস ঘাস করে নিশ্বাস তোলা, মাথার ভেতরে শব্দহীন ঝিঁঝিঁ করে ধুকানো স্বাধীনতার সীমা নাই বলে কী করা যায়।
গতকাল খাইরুলের আশা ছিলো একটা পার্সেল আসবে, তার জন্য ফোন দিয়েছিলো। কিন্তু সে মনে হলো মুঠোপ্রযুক্তির বন্দীখানা থেকে উড়াল দেয়া দরকার। আত্মার কয়েদালয়ে থাকতে হয় সময় বয়ে বয়ে উপযুক্ত অর্থ বা অন্য কিছুর বিনিময়ে নিজেকে বিকিকে দিতে হয়। দমের খেলায় এই বিক্রিবাট্টার হিসাব লেগে থাকে ধূসর হয়ে গিয়ে যায়।
খাইরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেস্টুরেন্টে সিঙ্গারা খাওয়ার পর মেসিয়ার জন্য বিল হয়ে যায় ৮০ টাকা। এখানে সে অপরাধ হবে কি? কৃমির ট্যাবলেট দিলে মনে হয় জ্ঞান নাকি ক্ষমতা উৎপাদন করে। ক্ষমতাসীন সেই উৎপাদিত জ্ঞান তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে কিছু বলাই নেই।
“রাজায় কইছে চুদির ভাই আনন্দের সীমা নাই”
এর মধ্যে খাইরুল পান্থকুঞ্জে গাছ গাছালি থাকলেও পার্কটাকে ল্যাংটা ল্যাংটা লাগে। তার পাশে যে ময়দার অংশটা ঝুরঝুরে বলে মনে হয় ক্যামিকেল প্রভাব পড়েছে। সে ভাবে গুগল করতে হবে— ক্লিন সেভ বা প্রভাবিত হয়ে মানুষের পায়খানা পাতলা হয়ে গিয়েছে। অফিসে কী করা যায় তা নিশ্চিত করতে হয়।
বেশ কয়েক দিন খাইরুলের জন্য মেসিয়ার লেজ দূরত্বে যে অবস্থা ছিলো সে অনেকের কাছে যা নেশা তাদের কাছে কম টাকায় পেট ভরার রসদ। বেকিং সোডা খেয়ে কিডনির অসুখের জন্য দায়ী হয়েছে। সেই শুধু সিঙ্গারা খাওয়ার সময় বলে ছিলো আপনি তো ১১টায় আসার কথা।
তারপর আমি আসব। খাইরুল রাগ দেখায় না, শুধু বলে, “আচ্ছা ঠিক আছে”। একটা ঘণ্টার মতো সময় নিয়ে এসএমএস লেখে: বস, সালাম। গতকাল থেকে পাতলা পায়খানা ঘুমিয়েছে। ভেবেছিলাম অফিসে আসবো।
যাওয়ার কী দরকার বলে মনে হয় সে ব্যস্ত সড়কের পাশে নোংরা এলাকায় যায়। কিন্তু সেখানে শব্দদূষণ ও দুর্গন্ধময় স্থানে ঘুম ভাঙার নিদানকাল আর সহ্য হয় না। সালাম দেয়া পরে বসের পাশে গুগল করে পাঠানো হয় বিনয়ের অবতার সেজে স্যার বার কয়েক সম্বোধন করে জানতে চায় চা আনবে কিনা? এর মানে তার কাছে সে পাত্তা পাচ্ছে।