৫ টাকার নোটের সেই কুসুম্বা মসজিদ
৫ ট ক র ন ট র – নওগাঁ জেলা, যা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সীমান্তবর্তী এলাকা, সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় পাঁচ শতাব্দী বয়সের কুসুম্বা মসজিদ। এই মসজিদটি বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতনতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি প্রধান স্থান অধিকার করে।
অবস্থান ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য
মসজিদটি রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা সেতুর পশ্চিমে প্রায় ৪০০ মিটার উত্তরে অবস্থিত। এই স্থাপনার প্রাচীনতা এবং নন্দনতাত্ত্বিক সৌন্দর্য এটি অনন্য করে তোলে। মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৫৮ ফুট লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪২ ফুট চওড়া হয়েছে। প্রতিটি দেয়াল পাথরে তৈরি এবং এগুলো প্রায় ৬ ফুট পুরু। কারুকাজের দিক থেকে এটি সুলতানি স্থাপত্যের স্বাক্ষর।
মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি বিশাল দিঘি রয়েছে, যা স্থানীয় জলাশয়ের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম। ছাদের ওপর দুটি সারিতে ছয়টি গম্বুজ সাজানো হয়েছে। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে গম্বুজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর তা পুনঃনির্মাণ করে।
নির্মাণের ইতিহাস
মসজিদটির নির্মাণ সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদিকে বলা হয় যে এটি ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে আফগান সুলতান গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহের শাসনকালে সোলাইমান দ্বারা নির্মিত হয়েছে। অপরদিকে একটি শিলালিপি থেকে ধরে নেওয়া হয়েছে যে এর ভিত্তি ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের আমলে স্থাপিত হয়েছিল।
মসজিদের ভেতরে দুটি তলার একটি কক্ষ রয়েছে, যা নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য পরিচিত। পশ্চিমের দেয়ালে ফুল, লতাপাতা ও শিকলের সূক্ষ্ম কারুকাজ নিয়ে তিনটি মেহরাব রয়েছে।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান যে মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। এখানে জুমার নামাজে ছয় হাজারের বেশি মুসল্লি সমবেত হন। খতিব মাওলানা মোস্তফা আল-আমিন বলেন, নির্মাণের ইতিহাস স্পষ্ট ছাড়া এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সম্পর্কে নতুন পরিচয় দেয়।