লিচুর রাজধানী বিজয়নগরে কোটি টাকার বাণিজ্য
ল চ র র জধ ন ব – যদিও গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপ দেখা দিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে লিচুর বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী বাজার এখন আগ্রহ নিয়ে চলছে। বিশেষ করে গুণগত মান ও সুগন্ধের জন্য এখানকার লিচু বিশেষ সম্মান লাভ করেছে।
প্রতিবছর এই অঞ্চলে লিচু বাণিজ্য কোটি টাকার স্তরে পৌঁছেছে। বিজয়নগরে স্থানীয় চাষিরা স্বাদের কারণে উৎপাদন লক্ষ্য ছাড়া হয়েছে বলে খুশি প্রকাশ করেছেন।
বর্তমান মৌসুমে সঠিক আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে বিজয়নগরে লিচুর ফলন উৎপাদন সীমার বাইরে গেছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা এ বছর উৎপাদন সাধারণত অতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।
বিভিন্ন বাজারে চলতি মৌসুমে আগাম লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে। উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তন ইউনিয়নের বাগানগুলো দেখা গেছে। প্রতিটি গাছ লাল টকটকে ফলে ভরে উঠেছে।
চম্পকনগরের এক চাষি জানান, পোকার আক্রমণ কম থাকায় লিচুর আকার ও রং বেশ ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনেকগুলি পাইকারি বাজারে লিচু বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকেই চাষিরা তাজা ফল নিয়ে বাজারে আসছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার পাইকারদের হাঁকডাকে মুখর এলাকা।
বর্তমানে জাত ও আকারের ভিত্তিতে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ মৌসুমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বিজয়নগর থেকে রেকর্ড পরিমাণ লিচু সরবরাহ করা সম্ভব।
স্থানীয় চাষিরা দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের জন্য একটি আধুনিক হিমাগার ও সরকারি উদ্যোগে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ কর্ম সংরক্ষণ সংকটের সমাধান হবে এবং চাষিরা ন্যায্যমূল্যে ফল পাবেন।