মাদ্রাসা শিক্ষকদের কাছে নালিশ করায় ৯ বছরের শিশুকে নৃশংস নির্যাতন: দুই শিক্ষক গ্রেপ্তার
নিষ্পাপ শিশুর ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা
ম য় র ক ছ ন ল – প্রতিষ্ঠানের পবিত্র আলো ছড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু তার মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মোঃ নূর-ই-সাফি নিষ্পাপ শিশু হিসেবে মারধরের শিকার হয়েছেন। তার চোখে দেখা যায় পরিবারের মানুষ তীব্র ক্ষোভে মুখ বুজে থাকে। মাদ্রাসার ভেতর সব সময় তার জন্য অমানুষিক শাস্তির হুঁশিয়ারি ছিল, কিন্তু এবার তার ওপর মারধরের সত্যিকারের অপরাধ চালু হয়েছে। মায়ের কাছে তার নির্যাতনের কথা বলার ‘অপরাধে’ শিক্ষকদের কর্মকান্ডে মারধরের ভয়াবহতা উপস্থিত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার
মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ প্রথমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পুলিশ তৎপরতা দেখায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে সাফি চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়, কিন্তু শিক্ষকদের সাথে আরও গুরুতর কাজ শুরু হয়। দুই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয় আদালতের মাধ্যমে। নির্যাতনের পর শিশুটি বাঁচানোর জন্য তার মামা মুঠোফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মাদ্রাসার স্থানীয় কর্মকর্তা এর পর থেকে মামলা দায়েরের জন্য দুজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। তাদের নির্মম নির্যাতনের কথা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘটনার ক্ষেত্রে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ পারিবারিক বিষয় বলে দাবি করে, কিন্তু পুলিশের তৎপরতা তাৎক্ষণিক ক্রিয়া নেয়।
মামলা করার পর মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে আছে। তবে ঘটনাটি পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার জন্য মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ নানাভাবে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না
পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইণ জানান, “ঘটনার জানার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। নির্যাতনের ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” ডিআইজি অফিস থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা লেখালেখি হয়েছে, কিন্তু তা থামছে না। নির্মমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।