মাত্র ১০ টাকার আবদারে নিহত হয়েছে রামিসা আক্তার
ম ত র ১০ ট ক আবদ – রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অবস্থিত একটি বাসার তৃতীয় তলায় শনিবার (২৪ মে) নিহত শিশু রামিসা আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে ডিবি ডিএমপি থেকে গ্রেফতার করে সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬)।
প্রতিবেশী দুর্ভাগ্য ও নৃশংস প্রক্রিয়া
রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ছিলেন তার জন্য সব সময় আনন্দ ভাজন বাপ। যাইহোক তার বাবা ছিল একটি সাধারণ আবদার এবং কেবল ১০ টাকার জন্য বোরকা কিনতেন। নিহত শিশুটি ছিল হাই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং রোল নম্বর ছিল ১। তিনি সব সময় শ্রেণীকক্ষের প্রথম সারিতে বসতেন।
ঘটনার পর পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেন। তার পরে শিশুটি মারা হয়েছিল পরম আদরে নতুন বোরকা কিনে দেওয়া হাতে হান্নান মোল্লার কাছে। সেই আবদার ছিল সরস এবং সুখের সংগ্রাম।
তা শুনলে শিউরে ওঠে মানুষের বিবেক।
তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রামিসার মা পারভীন আক্তার এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও খেলনা বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বার বার তার শেষ আবদারের কথা মনে করে।
তদন্তে জানা যায়, সোহেল রানা ছিলেন স্বপ্না আক্তারের সহযোগী। যখন শিশুটির মা তার বাসার দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন, তখন সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন। শিশুটির দেহ ক্ষতবিক্ষত করে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করেন।
সোহেল রানা পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। ইতিমধ্যে রামিসার বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তার ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন।