পল্লবীতে শিশু হত্যা: আসামিপক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ
পল লব ত শ শ হত য – রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলার আসামিপক্ষের আইনি সমর্থনের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। এটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে ঘোষণা করা হয়েছিল।
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় আসামিদের জন্য আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্র নিজে আইনি সমর্থনে অগ্রযাত্রা করে। শিশু হত্যা ঘটনার গুরুত্বপূর্ণতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ইতোমধ্যে, যাতে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ রেখেছে চার্জশিট।
পূর্বে দুপুরে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ঘটনার পর আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত জানায়, আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত শিশুটি গত ১৯ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তাকে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। শিশুটি বাবা-মা থেকে বের হওয়ার পর কিছুদিন নিখোঁজ ছিল। পরে মেয়ের জুতা দেখে বাবা-মা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর মাথা পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। তিনি জানায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি জ্ঞান হারালে এবং তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে তিনি ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পাশবিক নিষ্ঠুরতায় যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে।
আসামিপক্ষের বিচারাধীন মামলায় ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স লাইয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে আসামিদের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।