পদ্মা পাড় থেকে মহাসড়ক সর্বত্রই গরুচোর ও ডাকাত দলের আতঙ্ক
সারা দেশে গবাদি পশু লুট আতঙ্ক বাড়ছে
পদ ম প ড় থ ক মহ – পবিত্র ঈদুল আজহার আসন্ন হওয়ার পর রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চলে খামারী ও গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তি করতে বেশ কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোরবানীর ঈদ ঘিরে প্রায় সব জায়গায় গরু লুট বৃদ্ধি পেয়েছে। চরাঞ্চল থেকে শুরু করে ব্যস্ততম মহাসড়কে পশু মালিকদের জন্য সব সময় সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক অব্যাহত থাকছে।
গত সোমবার রাজশাহী বিভাগের লালপুর ও বাঘা থানার সীমান্ত অঞ্চলে দুর্বৃত্তরা সশস্ত্রে রাখালদের মারধর করে গরু পাল তাড়িয়ে লুট করার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে লালপুর থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মোটরসাইকেল যোগে গোপন অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করে।
সর্বতোভাবে ডাকাতি বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া
খামারীদের অভিযোগ অনুযায়ী চরাঞ্চলে অনেক সময় মালিকদের নিরাপত্তি করতে পারা যায় না। তাদের মারধর করে সশস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটছে। এমনকি এক মালিক মুক্তিপণ দাবি করেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “যদি উদ্ধার না হত তবে দুর্বৃত্তরা নদী পার করে কুষ্টিয়ার মিরপুর বা দৌলতপুরে গরু বিক্রি করত।” গরু উদ্ধারের পর পুলিশ মালিকদের জিম্মি করে দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়কে মরণফাঁদের নতুন ধারণা
রাজশাহীর চরাঞ্চলে পুলিশ সফল হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডাকাত দল গাছ ফেলে ট্রাক থামিয়ে গরু লুট করে। এ ঘটনায় চালক আকরাম হোসেন আহত হন।
“ডাকাতদল আমাকে কুপিয়ে ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ডাকাতি হওয়ার মাত্র দুই মিনিট পর পুলিশ সিএনজি আসে, কিন্তু এলাকাটি তাদের নয় বলে পার পেয়ে যায়।” – ট্রাকচালক মো. রুকনুজ্জামান
গ্রামে ডাকাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে
অনেক ভুক্তভোগী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গত বছর দাউদকান্দি এলাকায় ডাকাতি ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত অব্যাহত আছে। পুলিশ কাজ করছে, কিন্তু খামারীদের চাপা ক্ষোভ অব্যাহত থাকছে।
“আমরা চিৎকার করেছি, কিন্তু পুলিশ সাড়া দেয়নি।” – গরুর মালিক মোখলেছুর রহমান
এ পর্যন্ত কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নে মাদ্রাসার এতিমখানায় দুই দফায় গরু লুট হয়েছে। তিন মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি দুধের গরু ছিনতাই হয়েছে। ডাকাতদের পিস্তল ঠেকিয়ে তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ গুরুতর।