News

ঈদের আগে মুখর মধুপুরের কামারপল্লী

12b6456c-e529-40fb-8646-2d0f6529bfd3-0

ঈদের আগে মুখর মধুপুরের কামারপল্লী

Banglabeacon.com – ঈদ র আগ ম খর মধ প – ঈদুল আজহারের আগে মাত্র তিন দিন বাকি রয়েছে। শেষ মুহূর্তে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে সক্রিয়তার চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছেছে। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি করছেন কারিগররা। এই সময়ে তারা দা-বঁটি বানিয়ে দেখার জন্য দিন-রাত কাজ করছেন। কামারশালাগুলো হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে জমকে উঠেছে। ভোরের আলো ফোটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সরঞ্জাম তৈরির শব্দ থামছে না।

আগুনের তাপে লোহা লাল করে তৈরি করা হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা ও বঁটি। কেউ নতুন সরঞ্জাম কিনছেন, আবার কেউ পুরনো দা-ছুরিতে শান দিয়ে ধারালো করছেন। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, কাঠের হাতলের দা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বঁটি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাপাতি প্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে এবং চাইনিজ কুড়াল প্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিপেন কর্মকার নামের এক কারিগর বলেন, ‘কয়লা ও লোহার দাম বেশি হলেও এবার বিক্রি ভালো। দুই-তিন দিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না। নতুন সরঞ্জাম বিক্রির পাশাপাশি পুরনো দা-ছুরিতে শান দেওয়ার কাজও প্রচুর আসছে।’

প্রতিদিন ভোর থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এবার এই বাজার থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার সরঞ্জাম বিক্রির আশা করছেন তারা। কয়লা ও লোহার সংকটের কারণে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নাজিবুল বাশার ও লিয়াকত হোসেন নামের দুই ক্রেতা বলেন, কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে বাজারে এসেছেন তারা। গত বছরের তুলনায় প্রতিটি সরঞ্জামের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি মনে হচ্ছে। তবে মান ভালো পাওয়ায় তারা বাজার থেকেই দা-ছুরি কেনাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

কাজের চাপ বাড়ায় এই পেশার শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে। শ্রমিকেরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *