৬ মহাদেশে কোরবানির মাংসের রান্নার গল্প
৬ মহ দ শ ক রব ন – পৃথিবীর সমস্ত সংস্কৃতি মাংস রান্নার উপায়ে ভিন্ন প্রকারে প্রকাশিত হয়। মনস্তাত্ত্বিক ভাবে মানুষের স্বাদের পার্থক্য প্রাচীন জাতীয় সংস্কৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঐতিহাসিক প্রভাব যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। আগুন আবিষ্কারের পর মানুষ প্রথমে গরম করা মাংস খায়, পরবর্তীতে বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করে রান্না পদ্ধতি কৌশল বিকাশ করে।
কোরবানি সাধারণত শুধু ত্যাগের শিক্ষা দেয় না, এটি বিশ্বের বিভিন্ন কোণায় রান্নার কৌশলের এক উপস্থাপন। মধ্যপ্রাচ্যে কাবাব কোরবানির মাংস রান্নার প্রধান পদ্ধতি। ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডানে ছাগল ও ভেড়ার মাংস কাবাব তৈরি করা প্রাচীন প্রথা।
মধ্যপ্রাচ্যের আত্মীয়তা ও স্বাদ
সেখানে ‘শিশ তাওয়ুক’ (মুরগির কাবাব) এবং ‘কুবাইদি’ (কিমার কাবাব) প্রচুর চাহিদা পূরণ করে। তুরস্কে আদানা ও উরফা কাবাব বিখ্যাত। কেফাব তৈরি করতে মাংস দই ও মসলায় ম্যারিনেট করা হয়।
সিরিয়ায় মাংস লোহার সিকাতে গেঁথে আগুনে সেঁকা হয়। জর্ডানের বেদুইন প্রথায় মাটি চাপা উনুনে সম্পূর্ণ পশু সেঁকে এক ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয়িত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে রুয (মসলাদার চাল) ও মুতাব্বাল (বেগুনের বাটা) মাংসের সাথে সমন্বিত হয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় মসলার রাজ্য
ভারতীয় উপমহাদেশে কোরবানির মাংস মসলাদার কারি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ও ভারতে গরুর মাংসের রেজালা, কালিয়া ও কোচি পাঁঠার মাংস প্রাচীন প্রথা। দক্ষিণ ভারতে চেট্টিনাড চিকেন ও আত্তুকাল পায়া অনেকের পছন্দ।
ভারতীয় রান্নায় মাংস হলুদ, লঙ্কা, ধনিয়া ও জিরা মেখে স্থায়ী করা হয়। পাকিস্তানে আলু দিয়ে মাংসের ঝোল খাওয়া সাধারণ। উত্তর ভারতে জোশ ও নিহারী রাতভর মুখো করে তৈরি করা হয়।
উপমহাদেশে বিরিয়ানি ও পোলাও মাংস প্রাচীন প্রথায় অংশ নেয়। মাটন বিরিয়ানি ঈদের সামাজিক সমারোহের প্রতিফলন করে। ইন্দোনেশিয়ায় নারকেল দুধ ও লেমনগ্রাস সালাদ সাথে মাংস রান্না হয়। মালয়েশিয়ায় কালিও রান্না অনেক ঝাল ছাড়া।
ফ্রান্স ও ইউরোপের স্বাদ শিল্প
ইউরোপে কোরবানির মাংস ওভেনে রান্না ও গ্রিলে তৈরি করা হয়। ফ্রান্সে ম্যাগরেট ডি ক্যানার্ড এবং কসকুস সাধারণ। স্পেনে কর্ডেরো আসাদো বিশেষ প্রাচীন পদ্ধতি।
পুরো ভেড়া কাঠের আগুনে সেঁকা হয়। পর্তুগালে ফ্রান্সেসিনহা স্যান্ডউইচ মাংস ও সসের স্তরে প্রস্তুত। যুক্তরাজ্যে ইয়র্কশায়ার পুডিং সাথে গরুর মাংস খাওয়া প্রথা।
গ্রেভি সসে পছন্দ করে অনে