১৫৭ বছরের যে ভুলে আজও ডুবছে ঢাকা
মোঘল আমলে একটি জল আবৃত শহর
১৫৭ বছর র য ভ ল আজও – প্রাচীন ঢাকায় বহু খাল ও নদী ছিল শহরের প্রধান পরিবহন উপায়। এ কারণে শহরটি “প্রাচ্যের ভেনিস” নামে পরিচিত হয়েছিল। সদরঘাট এবং বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এই শহরের অভ্যন্তরে ভূগর্ভস্থ খালের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক ছিল। তবে মোগল সুবাদার ইসলাম খান দ্বারা ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় শহরের রূপ আলাদা ছিল। ১৬১০ সালে ধোলাইখাল খনন করা হয়েছিল এটি ছিল শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করার মূল উপায়। সে সময় খালগুলো নৌপথ হিসেবে কাজ করত এবং এটি ছিল প্রাকৃতিক পরিবহন ব্যবস্থা। মধ্যযুগে ঢাকা বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার ইতিহাস নেই বললেই চলে।
ব্রিটিশদের অপরিকল্পিত নগরায়ণ
১৮৬৪ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ব্রিটিশ শাসকেরা শহরটিকে ইউরোপীয় ছাঁচে গড়তে চাইলেন। তাদের প্রথম প্রাধান্য ছিল স্থলপথ উন্নয়ন। এজন্য খালগুলোকে বাদ দেয়া হলো। খাল ওপর কালভার্ট বা সেতু না বানাইয়া অনেক স্থানে তা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। বৃষ্টির পানি ছাড়া ছাড়া না হয়ে শহরের ভেতরে জমে দুর্গন্ধ ও মরণব্যাধি সৃষ্টি করে দিল।
আজ থেকে ১৫৭ বছর আগে ঢাকার সিভিল সার্জন ড. হেনরি চার্লস কটক্লিফ মিউনিসিপ্যালিটিকে এক রিপোর্ট প্রদান করেন। তিনি লিখেছিলেন- “ঢাকার ঐতিহাসিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও খালগুলো দিনে দিনে মাটি ও আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। এ কারণে বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে পারছে না, যা শহরের মধ্যে জমে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।”
ব্রিটিশ কর্তৃক খনন করা হয়েছিল প্রায় ৫২টি বাজার এবং ৫৩টি গলি। কিন্তু এটি আবর্জনা ও মাটি দ্বারা ভরাট করে পরিণত হয়েছিল ভূগর্ভস্থ একটি বদ্ধ নর্দমায়। স্বাধীনতার পর নব্বইয়ের দশকে এই বক্স কালভার্টের ওপর লোহার মার্কেট গড়ে ওঠে। এখন ঢাকা সিটির মতিঝিল, ধোলাইখাল ও সূত্রাপুরের রাস্তায় সামান্য বৃষ্টি হলে কোমর সমান পানি জমে থাকে। নর্দমা পানি রাস্তায় ওঠে এবং আবর্জনা ও