স্কুলে ক্লাস-মাঠ নেই, শুধুই ইট-বালির স্তূপ
স ক ল ক ল স ম – ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন প্রাণচঞ্চল মাঠের স্থান নেয় ইট-বালি এবং শুড়কির স্তূপ। গত এক বছরে এখানে প্রকৌশলী রেবেকা সুলতানা জানান, শ্রেণিকক্ষে বা মাঠে মালামাল স্থাপনে কোনো নিয়ম ছিল না। প্রাথমিক শিক্ষার কাজ শেষ হওয়ার জন্য তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
বিদ্যালয়ের মাঠটি প্রায় ৫০ শতক জমির ওপর অবস্থিত। সেখানে প্রধানত একটি পুকুর রয়েছে। গত এক বছর ধরে ওয়াশ ব্লক এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ চলছে। এর জন্য নূর ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ লাখ টাকা পায়।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পড়ালেখার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূঁইয়া জানান, কাজ শুরুর সময় ঠিকাদারকে নির্মাণসামগ্রী ক্লাসে ও মাঠে যত্রতত্র রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, একটি ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ঠিক কত দিন সময় লাগে? কেন দীর্ঘ এক বছরেও কাজ শেষ হচ্ছে না?
বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি ট্রাক্টর পড়ে আছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বিঘ্নিত হয়ে রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিজা বলেন, মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় তারা আর খেলতে পারে না। বাধ্য হয়ে পাশের ব্যস্ত সড়কে খেলাধুলা করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, শিশুদের রাস্তায় খেলতে বাধ্য করা মোটেই ঠিক নয়। রডের বান্ডেল ক্লাসে রাখায় বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। আগে থেকেই ফুরফুরে পরিবেশ হারিয়ে গেছে মাঠ দখল করে রাখায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানায়, শুধু পাঠদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, ঝুঁকিও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আগের সময়ে প্রাণচঞ্চল মাঠে ছুটে আসা শিশুদের কলরবে মুখর করত পুরো পরিবেশ। এখন সেখানে ইট, বালি এবং শুড়কির স্তূপ ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে।